মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার শিমুলিয়া ইউনিয়নে এক দরিদ্র চা-দোকানির দোকানঘর ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী শামসু শেখ (৪৫) ওই এলাকার মৃত সাইজুদ্দিন শেখের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ অবস্থায় স্ত্রী ও তিন কন্যাসন্তান নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করে আসছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শামসু শেখের আর্থিক দুরবস্থা বিবেচনায় নিয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আলদি ব্রিজের দক্ষিণ পাশে সরকারি খালের ওপর একটি ছোট চায়ের দোকান বসানোর ব্যবস্থা করে দেন। ওই দোকান থেকেই কোনোভাবে পরিবারটির জীবিকা নির্বাহ হচ্ছিল।
অভিযোগ রয়েছে, রোববার (৩ মে) সকালে কোনো প্রকার পূর্ব নোটিশ ছাড়াই কে-শিমুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অরুন তালুকদারের নির্দেশে ৫–৭ জন লোক এসে দোকানটি ভেঙে ফেলে। এ সময় দোকানের মালামালও ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে জানান ভুক্তভোগী।
শামসু শেখ অভিযোগ করে বলেন, “আমি অসুস্থ মানুষ। এই দোকানই ছিল আমার পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস। হঠাৎ করে এসে দোকান ভেঙে ফেলায় আমরা এখন নিঃস্ব হয়ে পড়েছি।”
শামসু শেখের আত্মীয় জাকির হোসেন বেপারি বলেন, “সরকারি জমিতে দোকানঘর। সরকারের প্রয়োজনে ভেঙে দিলে আমাদের দুঃখ থাকত না। কিন্তু অরুন তালুকদার কী কারণে ভাঙলেন, তার বিচার চাই।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা অরুন তালুকদার মুঠোফোনে বলেন, “দোকানঘর ভাঙার বিষয়ে আমি কিছু জানি না। তাদের সঙ্গে আমার পূর্ব বিরোধ ছিল, যার কারণে তারা আমার নাম বলেছে।”
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের কাছে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
টঙ্গীবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মনিরুল হক ডাবলু বলেন, “এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
