অর্ধকোটি টাকার জিরা ছিনিয়ে নিয়েছে বিএনপির কর্মী-সমর্থকরা, থানায় চলছে দর কষাকষি

রাজশাহীর বাঘার আড়ানীতে অর্ধকোটি টাকার জিরা ছিনিয়ে নিয়েছে এক ব্যবসায়ী এবং বিএনপির দলীয় কর্মী-সমর্থকরা।

বুধবার( ০৬ মে ) রাতে ঘটনাটি ঘটে। মিলন হোসেন নামের এক ব্যবসায়ীর নিকট থেকে জিরাগুলো কিনে নেয়ার কথা বলে আড়ানিতে ডেকে নেয়া হয়। কিন্তু বিএনপির দলীয় কর্মী-সমর্থকদের দিয়ে সবগুলো জিরা ছিনিয়ে নেয়া হয়।

বর্তমানে বাঘা থানায় এই বিষয় নিয়ে মোটা অংকের দর কষাকষি চলছে দলীয় নেতা কর্মীদের মধ্যে।

আরও নিউজ: https://samakal.com/whole-country/article/351964/

প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬

বাঘায় জিরা বিক্রির অর্ধকোটি টাকার লেনদেনকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিক্রি করা জিরার টাকা না পাওয়ার অভিযোগে চারজনের বিরুদ্ধে আত্মসাতের মামলা করেছেন এক ব্যবসায়ী। মঙ্গলবার রাতে বাঘা থানায় মামলাটি করা হয়।

মামলার বাদী পাবনার সুজানগর উপজেলার চর চিনাখড়া গ্রামের ব্যবসায়ী ফেরদৌস সরদার। অভিযুক্তরা হলেন—আড়ানী পৌরসভার জোতরঘু গ্রামের বাসিন্দা ও আড়ানী পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুজাত আহমেদ তুফান, তাঁর ভাই জাহাঙ্গীর হোসেন, ভাগ্নে সুইট ও শান্ত।

ফেরদৌস সরদার জানান, আড়ানী পৌরসভার পালপাড়া এলাকার সুইট যোগাযোগ করে জিরা কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেন। পরে গত ৬ মে সকালে ৩০ কেজি ওজনের ৩০০ বস্তায় মোট ৯ হাজার কেজি জিরা ট্রাকে করে সরবরাহ করা হয়। প্রতি কেজি ৫৫০ টাকা হিসেবে যার মোট মূল্য দাঁড়ায় ৪৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
অভিযোগে বলা হয়, সুইট ও শান্ত জিরাগুলো সুজাত আহমেদ তুফানের বাড়ির পাশের রেললাইনের ধারে নামানোর নির্দেশ দেন। মালপত্র নামানোর আগে টাকা চাইলে তারা নাফিজ এন্টারপ্রাইজের নামে পূবালী ব্যাংকের একটি স্বাক্ষরিত ফাঁকা চেক দেন। পরে ১৫০ বস্তা জিরা একটি ভটভটিতে তুলে লালপুরের উদ্দেশে পাঠানো হয় এবং বাকি ১৫০ বস্তা তুফানের বাড়িসংলগ্ন গোডাউনে রাখা হয়।
বাদীর দাবি, নগদ ২৫ লাখ টাকা দেখিয়ে বাকি টাকা সকাল ১০টার মধ্যে পরিশোধের আশ্বাস দেওয়া হয়। কিন্তু টাকা না দিয়ে সময়ক্ষেপণ করা হয়। একপর্যায়ে চেক ফেরত চাইলে তাঁকে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।

তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রথম দফার অভিযোগে ৭২ হাজার ৫০০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার কথা বলা হলেও পরবর্তীকালে দায়ের করা মামলার এজাহারে সেই বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘটনা জানাজানি হলে আড়ানী পৌর বিএনপির সভাপতি তোজাম্মেল হকের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষকে নিয়ে সালিশ বৈঠক হয়। পরে দুই দফায় মোট ১৭৫ বস্তা জিরা ফেরত দেওয়া হয়।
তোজাম্মেল হক বলেন, ‘প্রথমে ১১০ বস্তা এবং পরে ৬৫ বস্তা জিরা উদ্ধার করে মালিককে ফেরত দেওয়া হয়েছে। শুরুতে প্রায় ৪৬ লাখ ৮০ হাজার টাকার হিসাব ধরে ৩৭ লাখ টাকায় সমঝোতার চেষ্টা হয়েছিল। পরে বিষয়টি আর অগ্রসর হয়নি।’
বাদী ফেরদৌস সরদার বলেন, ‘এখনও ১২৫ বস্তা জিরা কিংবা সমমূল্যের টাকা ফেরত পাইনি। সেগুলো আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলা করেছি।’
বাঘা থানার ওসি সেরাজুল হক বলেন, ‘জিরা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা হয়েছে। তদন্তে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। এর আগে দুই পক্ষ সমঝোতার জন্য সময় নিয়েছিল।’
অভিযুক্ত সুজাত আহমেদ তুফান দাবি করেন, ‘প্রথম দফায় ১১০ বস্তা, দ্বিতীয় দফায় ৬৫ বস্তা এবং ঈশ্বরদী থেকে আরও ৬০ বস্তা জিরা ফেরত দেওয়া হয়েছে। আমি ষড়যন্ত্রের শিকার।’

Facebook
X
LinkedIn
Telegram
WhatsApp
Email