পটুয়াখালী প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের ওপর যুবদল নেতার হামলা

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য অপসারণের দাবিতে হওয়া অবস্থান কর্মসূচিতে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে উপজেলা যুবদলের বহিষ্কৃত সদস্য-সচিবের নেতৃত্বে বহিরাগতরা। ঘটনার ভিডিও করায় এক সাংবাদিককেও লাঞ্ছিত করা হয়েছে।

সোমবার সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

এ সময় উপজেলা যুবদলের বহিষ্কৃত সদস্য-সচিব সালাউদ্দিন রিপন শরীফের নেতৃত্বে বহিরাগতরা বিএনপিপন্থি ৮ জন শিক্ষকসহ অন্তত ২০ জনকে চেয়ার দিয়ে পিটিয়ে আহত করে।

এদিকে আহতদের মধ্যে আটজনকে তাৎক্ষণিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। আহতদের মধ্যে রয়েছেন মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এবিএম সাইফুল ইসলাম, হর্টিকালচার বিভাগের অধ্যাপক ড. আবদুল মালেক, ডিন কাউন্সিলের আহ্বায়ক ও কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আতিকুর রহমান, কৃষি রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. নিজাম উদ্দীন, ড. মো. শহিদুল ইসলাম, ড. ননী গোপাল, ড. রিপন চন্দ্র পাল, পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) মো. জসিম উদ্দিন, কর্মকর্তা ড. হাসিব মোহাম্মদ তুষার, আরিফুর রহমান নোমান ও নাসরিন আক্তারসহ অনেকে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থি শিক্ষক, কর্মকর্তারা প্রশাসনিক ভবনের সামনে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা ভিসির অপসারণ দাবি জানান। এ সময় ভিসির সমর্থনে দুমকি উপজেলা যুবদলের বহিষ্কৃত সদস্য সচিব রিপন শরিফের নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক বহিরাগত ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে কর্মসূচিতে বাধা দেয়।

আন্দোলনকারীদের দাবি, বহিষ্কৃত উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব রিপন শরীফের নেতৃত্বে আসা বহিরাগতরা শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় শিক্ষকদের চেয়ার দিয়ে পেটানো হয়।

ঘটনার পর পুরো ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। দুপুর ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে শিক্ষকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল হয়। পরে বিকাল ৪টায় শিক্ষক কর্মকর্তাদের এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ ঘটনায় বিচার না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এছাড়া আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণাও দেন শিক্ষক নেতারা।

ঘটনার পর ক্যাম্পাসে অবস্থানরত অভিযুক্ত বহিষ্কৃত যুবদল নেতা সালাউদ্দিন রিপন শরীফ সাংবাদিকদের বলেন, আমরা শুনেছি যে, কিছু আওয়ামী লীগের দোসরেরা ভিসি সাহেবকে এখানে আসতে দিচ্ছে না। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ে শান্তি, শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে আমরা এখানে এসেছি কিন্তু তারা আমাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছে। তারা মব সৃষ্টিকারী।

এদিকে হামলায় আহত বিশ্ববিদ্যালয়টির ডিন কাউন্সিলের কনভেনার ও কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান এ প্রতিবেদককে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এটি শিক্ষক-কর্মকর্তাদের ওপর নজিরবিহীন হামলা।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, জামায়াতপন্থি ভিসি এ হামলা করিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপাচার্য ড. কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, হামলার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। বর্তমানে ঢাকায় রয়েছেন, ক্যাম্পাসে ফিরে এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন।

Facebook
X
LinkedIn
Telegram
WhatsApp
Email