যশোরে আ.লীগ-বিএনপির কার্যালয় ও বস্তিসহ চার শতাধিক স্থাপনা উচ্ছেদ

যশোরে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ

যশোরে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ। রবিবার সকাল ৯টা থেকে উপশহর গাবতলা মোড়, বি ব্লক ও উপশহর ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় এ অভিযান শুরু হয়। সোমবার (১১ মে) বিকাল ৪টায় শেষ হয় উচ্ছেদ অভিযান। দুই দিনব্যাপী অভিযানে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের তিনটি কার্যালয়সহ চার শতাধিক অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ৫ একর সম্পত্তি।

গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে হাউজিং এস্টেটের সরকারি জমি দখল করে গড়ে তোলা হয় বিভিন্ন স্থাপনা। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে অবৈধ দখলদারদের জমি ছেড়ে দিতে একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হয়। সর্বশেষ শনিবার স্থাপনা সরিয়ে নিতে এলাকায় মাইকিং করা হয়। এরপর রবিবার সকাল ৯টায় জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের খুলনা বিভাগীয় নির্বাহী প্রকৌশলী জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়।
প্রথমে শহরের বাবলাতলা এলাকায় অভিযান শুরু হয়। সেখানে সরকারি খাস জমির ওপর নির্মিত একটি বাড়ি ভেঙে ফেলা হয়। পরে গাবতলা মোড়ে রাস্তার পাশের একাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।

এরপর অভিযান চলে বি-ব্লক বাজার এলাকায়। সেখানে রাস্তার পাশে অবস্থিত আওয়ামী লীগের একটি কার্যালয় ভেঙে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে সি-ব্লক এলাকায় গিয়ে সরকারি জমিতে নির্মিত দুটি বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। একপর্যায়ে উপশহর পার্কের সামনে অবস্থিত আওয়ামী লীগের আরও একটি আঞ্চলিক কার্যালয় এবং পাশের একটি মুদি দোকান উচ্ছেদ করা হয়। পরে পার্কসংলগ্ন আমতলা বস্তিতে অভিযান চালানো হয়। সেখানে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা দুই শতাধিক ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে বস্তির ভেতরে স্থাপিত দুটি কারখানাও ভেঙে ফেলা হয়।

সোমবার উপশহর, হাইকোর্ট মোড়, ঢাকা রোডসহ বিভিন্ন ব্লকে অভিযান চালানো হয়। বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলা অভিযানে হাইকোর্ট মোড়ে বিএনপির একটি কার্যালয়সহ ছোট বড় ২০০ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। অভিযান চলাকালে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতির কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছিল।

অভিযানের সময় অনেকে অভিযোগ করেন, তাদের পূর্ব নোটিশ ছাড়াই উচ্ছেদ করা হয়েছে। এ ছাড়া কয়েকজন অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের আমলে গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের কিছু কর্মকর্তা টাকা নিয়ে তাদের সেখানে বসবাসের সুযোগ করে দিয়েছিলেন। এখন হঠাৎ উচ্ছেদ অভিযান শুরু করায় শতাধিক পরিবার বিপাকে পড়েছেন।

এ বিষয়ে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের খুলনা বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জিয়াউর রহমান বলেন, ‘বার বার মাইকিং করেও অবৈধ দখলদারদের সরানো সম্ভব হয়নি। তাদের নিজ উদ্যোগে সরে যেতে বললেও নানা ধরনের টালবাহানা করা হয়। শেষ পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ কঠোর অবস্থানে যেতে বাধ্য হয়েছে। দুই দিনব্যাপী এ অভিযানে প্রায় পাঁচ একর সরকারি খাস জমি উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া জমির বর্তমান বাজারমূল্য আনুমানিক ৫০ কোটি টাকা। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

অভিযানকালে আরও উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ যশোরের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ইমাদুল ইসলাম তুহিন, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আশিক আহম্মেদ সাকিব এবং উপসহকারী প্রকৌশলী রাসেল মিয়া।

Facebook
X
LinkedIn
Telegram
WhatsApp
Email