“রুপপুরের মত প্রজেক্ট ভারতে ১৪ হাজার কোটি টাকায়”–প্রধানমন্ত্রীর এই দাবিটি সত্য নয়!

পপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যয় নিয়ে তারেক রহমানের ‘১৪ হাজার কোটি টাকা’র দাবি কি সঠিক? ভারতের কুদানকুলাম প্রকল্পের প্রকৃত খরচ এবং রূপপুরের প্রযুক্তির পার্থক্য নিয়ে পড়ুন আমাদের বিস্তারিত ফ্যাক্ট-চেক প্রতিবেদন।

১১ই মে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দাবি করেছেন, “পাশের দেশে সমমানের একটি প্রকল্প করতে যেখানে ১৪ হাজার কোটি টাকা লেগেছে, সেখানে রূপপুরে খরচ দেখানো হয়েছে ৯৬ হাজার কোটি টাকা”। দেখুন এখানে

ফ্যাক্ট-চেক

রুপপুর প্রকল্পের ব্যয় নিয়ে তারেক রহমানের বক্তব্যে অন্তত দুটি তথ্য সত্য নয়।

কুদানকুলাম বনাম রূপপুর প্রকল্পের প্রকৃত খরচ

রুপপুরের মত একই প্রযুক্তির কোন পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ভারতে নেই।যদিও কুদানকুলামে একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র রুপপুরের মতই রাশিয়ার রোসাটম নির্মাণ করেছে, তবে রুপপুর প্রজেক্টে ব্যবহৃত রিয়্যাক্টর হলো VVER-1200, যা ভারতের কোথাও নেই। কুদানকালামে ব্যবহৃত রিয়্যাক্টর হলো VVER-1000।

রুপপুরের সমসাময়িক সময়ে নির্মাণ কাজ শুরু হওয়া এই কুদানকালামে ৩ এবং ৪ নাম্বার ইউনিটের মোট বাজেট ধরা হয়েছে বাংলাদেশী মুদ্রায় ৫২ হাজার কোটি টাকা প্রায় (৪০ হাজার কোটি রুপি)।  ডলারে যার মূল্য প্রায় ৬.৫ বিলিয়ন ডলার। দেখুন এখানে, এখানে

কুদানকালামের সাথে রুপপুরের তুলনা বিভ্রান্তিকর

শুরুতেই উল্লেখ করা হয়েছে, কুদানকালাম এবং রুপপুর একই প্রযুক্তির নয়। তাই এই ২টি প্রজেক্টের তুলনা অবান্তর।

কারিগরি বিবর্তনের দিক থেকে কুদানকুলাম জেনারেশন ৩ (Gen III) প্রযুক্তির, যেখানে রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি সম্পূর্ণ জেনারেশন ৩+ (Gen III+) প্রযুক্তির, যা বর্তমানে বিশ্বে সবচেয়ে আধুনিক ও নিরাপদ হিসেবে স্বীকৃত।

রুপপুরের উৎপাদন ক্ষমতা ২০% বেশি। VVER-1200 রিয়্যাক্টর   এর রুপপুরে ২ ইউনিটে উৎপাদিত হবে ২৪০০ মেগাওয়াট, যেখানে কুদানকালামের ইউনিট ৩,৪ এ VVER-1000 ব্যবহৃত হওয়ায় ২ ইউনিটে উৎপাদন সক্ষমতা ২০০০ মেগাওয়াট।

রিয়্যাক্টর নিয়ে বিস্তারিত জানতে মাউস হোভার করুন

রূপপুরে ডাবল কন্টেনমেন্ট (দ্বিস্তরী সুরক্ষা দেয়াল) ব্যবহার করা হয়েছে, যা উড়োজাহাজ আছড়ে পড়লেও রিঅ্যাক্টরকে সুরক্ষিত রাখতে পারে । কুদানকুলামের প্রথম দিকের ইউনিটগুলোর তুলনায় রূপপুরের কন্টেনমেন্টের ভেতরের আয়তন ও চাপ সহনশীলতা অনেক বেশি।

এই বিষয়ে ইনফোগ্রাফিতে দেখুন ফ্যাক্টচেক

 

রূপপুর ছিল সম্পূর্ণ “greenfield project”। রাস্তা, আবাসন, স্টোরেজ, ট্রান্সপোর্ট হাব, নিরাপত্তা অবকাঠামো — সব শূন্য থেকে বানাতে হয়েছে।কিন্তু Kudankulam Nuclear Power Plant-এর ৩–৪ নম্বর ইউনিট আগের স্থাপিত অবকাঠামো অর্থাৎ ১-২ নম্বর ইউনিটের ওপর নির্মিত হয়েছে।

রূপপুরে EPC (Engineering, Procurement, Construction) চুক্তি হয়েছে। অর্থাৎ নির্মাণ এবং ইনস্টলেশন ছাড়াও কমিশনিং, প্রশিক্ষণ সহ অন্যান্য সহায়ক কাজ একই প্যাকেজে। অন্যদিকে কুদানকুলামে EP contract ছিল। সেখানে নির্মাণ ও কমিশনিংয়ের বড় অংশ ভারত নিজেই করেছে। কয়েক দশক আগে থেকেই পারমানবিক বিদ্যুৎ এর একাধিক প্ল্যান্ট থাকা ভারত নিজেই প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য সহায়ক কাজে পূর্ব অভিজ্ঞতা সম্পন্ন।

তাছাড়া বাংলাদেশ আমদানি নির্ভর দেশ হওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রায় সমস্ত যন্ত্রপাতি আমদানি করেছে। অন্যদিকে ভারতে অনেক ক্ষেত্রেই স্থানীয় ভাবে উৎপাদিত কাঁচামাল এবং যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়েছে। ফলে তাদের খরচ সাশ্রয় করা সম্ভব হয়েছে। দেখুন। 

সিদ্ধান্ত: মিথ্যা / FALSE ❌

“রুপপুরের মত প্রজেক্ট ভারতে ১৪ হাজার কোটি টাকায়”–প্রধানমন্ত্রীর এই দাবিটি সত্য নয়!

দাবির সারাংশ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দাবি করেছেন, “পাশের দেশে সমমানের একটি প্রকল্প করতে যেখানে ১৪ হাজার কোটি টাকা লেগেছে, সেখানে রূপপুরে খরচ দেখানো হয়েছে ৯৬ হাজার কোটি টাকা”।”

ফ্যাক্ট-চেক: রূপপুর প্রকল্পের ব্যয় নিয়ে তারেক রহমানের দাবি কি সত্য? (কুদানকুলাম বনাম রূপপুর) ভিডিওতে দেখতে পারেন ফ্যাক্ট জোনের আরো বিস্তারিত বিশ্লেষন

Facebook
X
LinkedIn
Telegram
WhatsApp
Email