বগুড়ার ধুনট উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (২০ মে) উপজেলার মথুরাপুর বাজারের মাংস ব্যবসায়ী সাইদুল ইসলাম বাদী হয়ে ধুনট থানায় এ অভিযোগ করেন।
ব্যবসায়ী সাইদুল ইসলাম উপজেলার গোপালপুর খাদুলী গ্রামের আলতাব আলীর ছেলে।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মথুরাপুর বাজার এলাকায় স্থায়ী ও অস্থায়ীভাবে প্রায় ৪০০ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন ধরনের পণ্যসামগ্রীর ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বেপরোয়া হয়ে ওঠেন বিএনপি নেতা রেজাউল ইসলাম ও তার লোকজন।
বিএনপি নেতা রেজাউল ইসলাম মথুরাপুর বাজারের ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে প্রায়ই টাকা আদায় করতে থাকেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে ব্যবসায়ীরা ধর্মঘট ও মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন।
এ অবস্থায় গত ১৫ মে দুপুর আড়াইটার দিকে মথুরাপুর বাজারের মাংস ব্যবসায়ী সাইদুল ইসলাম ও বেল্লাল হোসেনের কাছে ২০ হাজার টাকা করে চাঁদা দাবি করেন রেজাউল ইসলাম ও তার লোকজন। কিন্তু ওই দুই ব্যবসায়ী তাদের টাকা দিতে রাজি হননি।এ কারণে রেজাউল ইসলাম ক্ষুব্ধ হয়ে মাংসের দোকান থেকে মাংস কাটার ছুরি নিয়ে ব্যবসায়ীদের কোপানোর চেষ্টা করেন। তখন ব্যবসায়ীর চিৎকারে বাজারের অন্য ব্যবসায়ীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছলে রেজাউল ইসলাম ও তার লোকজন সেখান থেকে সটকে পড়েন।
এ ঘটনায় ব্যবসায়ী সাইদুল ইসলাম বাদী হয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগে অলোয়া গ্রামের সোলায়মান আলীর ছেলে মথুরাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম ও ইউনিয়ন বিএনপির কোষাধ্যক্ষ অলোয়া গ্রামের আসাদুল ইসলামসহ ৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম বলেন, ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কোনো প্রকার চাঁদা আদায় করা হয় না।
রপরও আমার প্রতিপক্ষের লোকজন ব্যবসায়ীকে দিয়ে আমার বিরুদ্ধে থানায় চাঁদাবাজির মিথ্যা অভিযোগ করিয়েছেন। আমি এ অভিযোগে সঠিক তদন্তের দাবি করছি।
ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মাংস ব্যবসায়ীর চাঁদাবাজির অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
