রাসেল বাহিনীর মাদক পাচার নিয়ন্ত্রণ করছে যুবদল নেতা!

শেরপুর সীমান্তে ‘রাসেল বাহিনী’ নামে পরিচিত একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাদক পাচার কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছেন গোলাম কিবরিয়া নামে এক যুবদল নেতা- এমন অভিযোগ উঠেছে। গোলাম কিবরিয়া ঝিনাইগাতী উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়ন যুবদলের সহ-সভাপতি ও সন্ধ্যাকুড়া গ্রামের ইউপি সদস্য।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তের শীর্ষ সন্ত্রাসী ও কথিত মাদক সম্রাট রাসেল মিয়া গোলাম কিবরিয়ার ভাগিনা। পুলিশ সূত্র জানায়, রাসেলের বিরুদ্ধে থানায় ২০ থেকে ৩০টি মাদক মামলা রয়েছে। একাধিক মামলার আসামি হলেও জামিনে বেরিয়ে এসে তিনি আবারও মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, শুধু রাসেল নয়, তার পরিবারের নারী-পুরুষসহ অনেক সদস্যই মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। প্রায় ২০০ সদস্য নিয়ে গড়ে উঠেছে রাসেল বাহিনী। এ বাহিনীর সদস্যরা শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার নাকুগাঁও এলাকা থেকে ঝিনাইগাতী হয়ে শ্রীবরদী উপজেলার কর্ণঝোড়া পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে ভারতীয় মাদক ও বিভিন্ন পণ্য পাচার করে আসছে।

স্থানীয়দের দাবি, প্রতিদিন কোটি টাকার মাদক পাচার হচ্ছে এ রুট দিয়ে। মাদক পরিবহনের জন্য চক্রটির নিজস্ব অর্থায়নে কেনা হয়েছে আটটি কভারভ্যান। এসব যানবাহনে দিন-রাত মাদক পরিবহন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

সবচেয়ে বেশি মাদক পাচারের এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে ঝিনাইগাতী উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের হলদিগ্রাম, সন্ধ্যাকুড়া, গোমড়া এবং কাংশা ইউনিয়নের নওকূচি, গান্দিগাঁও, হালচাটি, গজনী ও তাওয়াকোচা এলাকাকে।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, নারী-পুরুষ ও কিশোর গ্যাংসহ দুই শতাধিক সদস্য এ বাহিনীর সঙ্গে জড়িত। রাসেল মিয়া সন্ধ্যাকুড়া গ্রামের প্রভাবশালী আব্দুস ছামাদের ছেলে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রাসেল বাহিনীর প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে ছিলেন তার মামা ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জামাল মিয়া। সরকার পরিবর্তনের পর সেই দায়িত্ব নেন আরেক মামা যুবদল নেতা গোলাম কিবরিয়া।

বিজিবির গোয়েন্দা সূত্র জানায়, বাহিনীর সক্রিয় সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন ফারুক, আল আমীন, কোরবান আলী, ভোমা মিয়া, রুপচান, সাদ্দামসহ আরও অনেকে। কয়েকজন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কিশোরও এ চক্রের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয়রা জানান, ভারত থেকে মদ, গাঁজা, হেরোইন, ইয়াবা, ফেনসিডিল, কম্বল, গরু ও বিভিন্ন প্রসাধনী সামগ্রী সীমান্ত পথে এনে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হয়। ফলে শেরপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় সহজলভ্য হয়ে উঠেছে মাদকদ্রব্য। এতে যুবসমাজ বিপথগামী হচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

অভিযোগ রয়েছে, রাসেল বাহিনীর সদস্যরা শুধু মাদক পাচার নয়, নারী নির্যাতন, অপহরণ ও ধর্ষণের মতো অপরাধেও জড়িত। সন্ধ্যাকুড়া রাবার বাগান এলাকায় তরুণী অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এসব ঘটনায় কেউ প্রতিবাদ করলে হামলা, ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাসেল বাহিনীর বিরুদ্ধে মামলা নিতে অনেক সময় অনীহা দেখায় থানা পুলিশ। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিজিবির ময়মনসিংহ ৩৯ ব্যাটালিয়নের হলদিগ্রাম সীমান্ত ফাঁড়ির নায়েক সুবেদার রাজু আহমেদ বলেন, “গত এক বছরে সীমান্ত এলাকা থেকে প্রায় ৩০ কোটি টাকার মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে বিজিবির টহল কার্যক্রম জোরদার রয়েছে।”

Facebook
X
LinkedIn
Telegram
WhatsApp
Email