টঙ্গীতে জমি বিক্রির চাঁদার টাকা ভাগাভাগি নিয়ে যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সদস্য হাজী বিল্লাল হোসেনের বাড়িতে হামলা ও গুলিবর্ষণ করেছে দুর্বৃত্তরা। এসময় ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়।
এ ঘটনায় বিএনপি নেতার ছেলেসহ অন্তত ৪ জন আহত হয়েছেন। হামলাকারীরা স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী সমর্থক।
শুক্রবার (২২ মে) রাত ৮টায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন- টঙ্গীর দত্তপাড়া এলাকার হাজী বিল্লাল হোসেনের ছেলে আবির হোসেন আলোক (১৬), একই এলাকার আব্দুল রশিদের ছেলে রাহাত হোসেন (২৫)।
আউচপাড়া এলাকার ইব্রাহিম খলিলের ছেলে নাহিদুল ইসলাম (৩০) ও দিঘির পাড় এলাকার হেলাল উদ্দিনের ছেলে রিয়াজ (২৪)।
ভুক্তভোগী বিএনপি নেতা হাজী বিল্লাল হোসেন জানান, ওয়ারিশ সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ একটি পক্ষের সঙ্গে বিরোধ চলে আসছিল। গত বৃহস্পতিবার তারা সমস্যা সমাধান করে জমি রেজিস্ট্রেশন করার কথা ছিল। কিন্তু বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে তারা আসেননি।
পরে শুক্রবার রাত ৮টার দিকে স্থানীয় সন্ত্রাসী আদনান খান অজ্ঞাতনামা দেড় শতাধিক লোকজন নিয়ে তার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এসময় তার ছেলে আবিরসহ কয়েকজন বাধা দিতে গেলে সন্ত্রাসীরা তাদের দেশীয় ধারাল অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে। একপর্যায়ে তারা বেশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে ও সদৃশ বস্তুর বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাষ্টার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক গুরুতর আহত নাহিদকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, হামলাকারীরা স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী সমর্থক।
২০ কাটা জমি কেনা-বেচার চাঁদা নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা সংক্রান্ত বিরোধ ছিল। এই বিরোধের জের ধরে বঞ্চিত গ্রুপ লাভবান গ্রুপের বাড়িতে তাণ্ডব চালায়।
এ বিষয়ে জানতে আদনান খানকে ফোনে পাওয়া যায়নি। একটি পোস্টারে তাকে স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী হিসেবে পাওয়ায় যায়। পোস্টারে আদনানের ছবির ওপরে থাকা নেতার ছবি দেখে গাজীপুর মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব হালিম মোল্লাকে ফোন করলে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, একটু আগে ঘটনা শুনেছি। অনেকেই রাজনীতি করেন। আদনান নামে কাউকে চিনতে পারছি না। বিষয়টি খতিয়ে দেখব।
এ বিষয়ে টঙ্গী পূর্ব থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. তুহিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ঘটনা সঠিক। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
