খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সর্দার দৌলত হোসেন ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে দখলবাজি, চাঁদাবাজি এবং হামলার অভিযোগ উঠেছে। তাদের এমন কর্মকাণ্ডে স্থানীয় জনমনে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সর্দার দৌলত হোসেন ও তার ভাই বেলালের নেতৃত্বে একটি সন্ত্রাসী বাহিনী স্থানীয় ১৫ বিঘার একটি বিশাল মৎস্য ঘের জোরপূর্বক দখল করে নেয়। এতে ঘের মালিকের প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। শুধু মাছ লুট করেই তারা ক্ষান্ত হয়নি, পরবর্তীতে ভুক্তভোগী পরিবারটি আবার ঘেরে মাছ চাষ করতে গেলে দৌলত ও বেলালের বাহিনী তাদের ওপর হামলা চালায়। ‘অনুমতি ছাড়া’ কেন ঘেরে মাছ ছাড়া হয়েছে, এই অজুহাতে তারা ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ঘেরের পাড়ে থাকা দুটি ঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে এক নারী প্রত্যক্ষদর্শী জানান।
চুকনগর বাজারে এক ব্যবসায়ীর দোকান জোরপূর্বক দখল করে দলীয় কার্যালয় বানানোর অভিযোগ উঠেছে দৌলত হোসেনের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলাম মিলন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আদালতের রায় আমার পক্ষে আসার পরও আমি দোকানটি ফেরত পাইনি। উল্টো সেখানে বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয় বানিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বড় বড় ছবি টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এই বিষয়ে চুকনগর বাজার বণিক সমিতির সভাপতি মো. সাইদুর রহমান বলেন, দোকানটি দখলের কাজটি দৌলত হোসেন করছেন তা আমি জানি। তবে এটি সরকারি পেরিফেরির জায়গা কি না বা এর কোনো বৈধ কাগজপত্র আছে কি না, তা আমার জানা নেই।
স্থানীয়দের দাবি, সর্দার দৌলত হোসেনের ছোট ছেলেও নিজস্ব বাহিনী নিয়ে লাঠিসোঁটা হাতে বিভিন্ন এলাকায় তাণ্ডব চালিয়ে বেড়ায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এমন কিছু ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।
এছাড়া, পার্শ্ববর্তী কেশবপুর উপজেলার গৌরীঘোনা গ্রামের লুৎফুর রহমান নামের এক ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তায় অভিযোগ করেন যে, সর্দার দৌলত হোসেন ও তার ভাই বেলাল হোসেন সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে গিয়ে তাদের পৈতৃক জমি অন্য একজনকে দখল করিয়ে দিয়েছেন। এই সময় সেখানে ব্যাপক মারধর ও তাণ্ডব চালানো হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এই বিষয়ে খুলনা জেলা বিএনপির সদস্য-সচিব এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পি জানান, দৌলত হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়ার পরপরই দল থেকে তাকে শোকজ (কারণ দর্শানোর নোটিশ) করা হয়েছিল। তিনি শোকজের জবাবও দিয়েছেন। খুব দ্রুতই তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বিএনপির নাম ব্যবহার করে কেউ যদি দখলবাজি বা চাঁদাবাজি করে, তাকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন সর্দার দৌলত হোসেন। তার দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে আমার বিরুদ্ধে এসব মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এসব ঘটনার সঙ্গে আমার বা আমার পরিবারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
