ইউপি প্রশাসককে ছাড়াই বিএনপি নেতার ভিজিএফ চাল বিতরণ: অনিয়মের অভিযোগ

বগুড়ার আদমদীঘি ইউনিয়নে সরকারি বিধিমালা উপেক্ষা করে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসককে ছাড়াই ভিজিএফ (VGF) চাল বিতরণের খবর পাওয়া গেছে। গত রবিবার সকালে ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে প্রশাসনিক কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে রাজনৈতিক নেতাদের প্রাধান্য নিয়ে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ১ হাজার ৮৩৫ জন সুবিধাভোগীর মাঝে ১০ কেজি করে চাল বিতরণের এই কার্যক্রম উদ্বোধন করেন উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আব্দুল মুত্তাকিন তালুকদার মুক্তা। উদ্বোধনকালে তিনি জনসমক্ষে বলেন, “এই ইউনিয়নে কোনো চেয়ারম্যান দায়িত্বে নেই। কোনো বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি হলে আমাদেরই আসতে হবে।” তার এমন মন্তব্য এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে নানা প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে।

অথচ ইউনিয়নের প্রশাসক আশরাফুল ইসলাম নিয়মিতভাবে পরিষদের বিভিন্ন জনসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। ফলে ইউনিয়নের যেকোনো প্রশাসনিক সমস্যা বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার দায়ভার বর্তায় প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশরাফুল ইসলামের ওপর। কিন্তু তিনি পরিষদের কাজে দায়িত্বে অবহেলা করে অন্য কাজে ব্যস্ত ছিলেন বলে অনেকেই অভিযোগ করে বলছেন।

এদিকে সরকারি ত্রাণ বিতরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসককে পাশ কাটিয়ে রাজনৈতিক নেতাদের সম্পৃক্ত করাকে সরকারি নীতিমালা ও স্বচ্ছতার পরিপন্থী বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। ঘটনাটি নিয়ে এলাকাজুড়ে জনসাধারণের মাঝে দেখা দিয়েছে অসন্তোষ ও নানা প্রশ্ন।

জানা যায়, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে আদমদীঘি ইউনিয়নে হতদরিদ্র মানুষের মাঝে সরকারি বরাদ্দকৃত ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় ১ হাজার ৮৩৫ জন উপকারভোগীর মধ্যে ১০ কেজি করে বিনামূল্যে চাল বিতরণ করা হয়েছে।

ইউনিয়ন পরিষদের বিধি অনুযায়ী, এ ধরনের সরকারি সহায়তা বিতরণের সময় পরিষদের চেয়ারম্যান বা দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক, ট্যাগ অফিসার, সচিব এবং ইউপি সদস্যদের উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক। সংশ্লিষ্ট প্রায় সবাই উপস্থিত থাকলেও

প্রধান দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক আশরাফুল ইসলাম অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত ছিলেন। অথচ তিনি অন্য কোন কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন বলে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। অভিযোগ রয়েছে, নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা না করে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাব খাটিয়ে উপজেলার বিএনপির সহ-সভাপতি আব্দুল মুত্তাকিন তালুকদার মুক্তা তিনি উপস্থিত থেকে দরিদ্র মানুষের মাঝে এই চাল বিতরণ করেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক প্রোগ্রামে না আসায় রাজনৈতিক নেতাদের সরাসরি এ কার্যক্রম পরিচালনা করায় জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

অনেক বঞ্চিত ও প্রাপ্য ভুক্তভোগী অভিযোগ করে বলেন, “আমরা কোনো দল বা পার্টির সঙ্গে জড়িত নই, তাই সরকারি কোনো সুবিধাও পাই না।” শুধু তাই নয়, বালতি দিয়ে চাল বিতরণ করায় ১০ কেজির স্থলে অধিকাংশই সাড়ে ৮ থেকে ৯ কেজির বেশি চাল পাননি। পরে কিছু চাল অবশিষ্ট থাকলে তা পরিষদের কর্মচারীরা নিয়ে যান।

Facebook
X
LinkedIn
Telegram
WhatsApp
Email