তুলে নিয়ে ধর্ষণের মামলায় বিএনপি নেতা গ্রেপ্তার

এক নারীকে তুলে নিয়ে আটকে রেখে একাধিকবার ধর্ষণ এবং সেই ঘটনার ভিডিও ধারণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গোপাল ঘোষ নামে এক বিএনপি নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি রাজধানীর মতিঝিল থানার ১০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য। এদিকে, গ্রেপ্তার হওয়ার পর গোপাল ঘোষ কারাগারে বসেই স্বজন এবং স্থানীয় কিশোর গ্যাংয়ের মাধ্যমে ভুক্তভোগী নারীকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মামলা না তুলে নিলে জামিনে বের হয়ে তিনি ভুক্তভোগীকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয় লোকজন জানায়, এজিবি কলোনির হিন্দুপাড়া দুর্গামন্দির সংলগ্ন এলাকায় বিএনপি নেতা গোপাল ঘোষের অত্যাচারে বাসিন্দারা অতিষ্ঠ। এলাকায় অস্ত্র, মাদক কারবারসহ দীর্ঘদিন ধরে নৈরাজ্য চালিয়ে আসছেন তিনি। প্রকাশ্যে সাধারণ মানুষকে মারধর এবং চাঁদাবাজির অসংখ্য অভিযোগ ছাড়াও ধর্ষণ এবং পর্নোগ্রাফি অভিযোগে মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এর মধ্যে সম্প্রতি এক নারীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ এবং সেই দৃশ্য ধারণের অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন তিনি।

ভুক্তভোগীর পারিবারিক সূত্র এবং মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী একটি উচ্চ বিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কর্মরত। গোপাল ঘোষের বোনের বাড়িতে তিনি ভাড়া থাকতেন। গোপাল ঘোষও তার বোনের বাসাতেই থাকেন। একই বাড়িতে বসবাস করার কারণে গোপাল ঘোষ প্রায়ই তাকে কুপ্রস্তাব দিতেন। গত ২০ এপ্রিল দুপুরে কর্মস্থলে যাওয়ার সময় এজিবি কলোনির কাঁচাবাজার মোড় থেকে গোপাল ঘোষ তাকে জোর করে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নেন এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে টাঙ্গাইলে নিয়ে যান। সেখানে ছয় দিন আটকে রেখে গোপাল ঘোষ তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন এবং সেগুলোর ভিডিও ধারণ করেন। ২৬ এপ্রিল সকালে সুযোগ বুঝে সেখান থেকে পালিয়ে একটি দোকান থেকে স্বামীকে ফোন করেন ভুক্তভোগী নারী। পরে তার স্বামী তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন। পরে ভুক্তভোগী জানতে পারেন, যেদিন তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় সেদিনই মতিঝিল থানায় তার স্বামী একটি জিডি করেছিলেন। এরপর ধর্ষণের অভিযোগে তিনি মামলা করেন।

ভুক্তভোগীর স্বজনরা জানান, ধর্ষণের মামলা হওয়ার বেশ কয়েকদিন পর গোপালকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। কিন্তু তিনি গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যাওয়ার পরও তার মা এবং বোন সিবানী ঘোষকে দিয়ে হুমকি দেওয়াচ্ছেন। মামলা না তুললে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দিচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী নারী ও তার স্বজনরা প্রাণনাশের সংশয়ে দিন পার করছেন বলে জানিয়েছেন।

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘৪২ বছর ধরে এ এলাকায় বসবাস করছি, এমন খারাপ অবস্থা আগে আর দেখিনি। এর মূলহোতা হচ্ছেন গোপাল ঘোষ। প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেওয়া, চাঁদাবাজি, মাদক কারবারসহ এমন কোনো অপরাধ নেই, যা তিনি করেন না। তার যন্ত্রণায় এলাকায় সবাই অতিষ্ঠ। তার বিরুদ্ধে বিএনপির নেতারাও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না।’

জানতে চাইলে মতিঝিল থানার ১০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ ফাইজুর রহমান কালবেলাকে বলেন, ‘গোপাল ঘোষের বিরুদ্ধে আমাদের কাছে বিভিন্ন অভিযোগ এসেছে। তার বিরুদ্ধে দ্রুতই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেজবাহ উদ্দিন বলেন, আসামিকে ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তারের পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাদীকে হুমকি বা ভয় দেখানোর অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Facebook
X
LinkedIn
Telegram
WhatsApp
Email