সমান বরাদ্দ পাচ্ছেন না বিরোধী দলের এমপিরা

সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বরাদ্দ নিয়মিত পাচ্ছেন না বিরোধী দলের সংসদ-সদস্যরা (এমপি)। চলতি অর্থবছরের শেষ ভাগে জুনের হিসাবে দেখা যায়, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া থোক বরাদ্দ সরকারদলীয় এমপিরা বেশি পাচ্ছেন। সরকারের তরফ থেকে সরকার ও বিরোধী দলের সমান বরাদ্দের দাবি করা হলেও উন্নয়ন বরাদ্দের আদেশে মিলছে ভিন্ন তথ্য।

প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, ৩০ এপ্রিল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিটা) এবং টেস্ট রিলিফ (টিআর) বরাদ্দ পাননি বিরোধী দলের সদস্যরা। এ বিষয়ে কৌশলী জবাব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, যারা শুধু ডিও লেটার দিয়েছেন তাদের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যারা ডিও লেটার দেননি তাদের অনুকূলে থোক বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোনো মন্তব্য করেননি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটির পর সচিবালয়েও আসেননি। তার নির্বাচনি এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে সফরে রয়েছেন বলে জানা যায়। অতিরিক্ত সচিব নুরুন আখতার যুগান্তরকে বলেন, ‘থোক বরাদ্দের টাকা ও খাদ্যশস্য আমরা সমানভাবে বরাদ্দ দিয়েছি। সব সংসদ-সদস্যদের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আপনার হয়তো কোথাও ভুল হচ্ছে।

জানতে চাইলে সাবেক কৃষি সচিব আনোয়ার ফারুক যুগান্তরকে বলেন, কমন বরাদ্দ সব এমপি সমান পাবেন। বিশেষ বরাদ্দের ক্ষেত্রে পরিমাণ কম-বেশি হতে পারে। তবে কমন বরাদ্দ কম-বেশি দিয়ে তিক্ততা ঠিক না। কমন বরাদ্দ সবাই সমান পাবেন। এখানে বাড়ানো কিংবা কমানোর সুযোগ নেই।

ফিরোজপুর থেকে নির্বাচিত জামায়াতের সংসদ-সদস্য মাসুদ সাঈদী যুগান্তরকে বলেন, নির্বাচনের পর ২৫ মার্চ ২৫ লাখ টাকা এবং ৩০ টন চাল-গম বরাদ্দ পেয়েছি। ওই টাকা এবং চাল-গম দিয়ে এলাকায় উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড করা হয়েছে। এরপর আর কোনো বরাদ্দ পাইনি। ৩০ এপ্রিল ডামি অফিশিয়াল লেটার (ডিও) বিপরীতে ২২০ জন সংসদ-সদস্যের প্রত্যেককে ৮৫ লাখ টাকা এবং ৯০ টন চাল-গম বরাদ্দ দিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে মাসুদ সাঈদী বলেন, এ যাত্রায় (৩০ এপ্রিল) বিরোধী দলের এমপিদের কোনো বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। থোক বরাদ্দ পাওয়ার জন্য কোনো ডিও দেওয়া লাগে কিনা এমন প্রশ্নে মাসুদ সাঈদী যুগান্তরকে বলেন, ডিও দিয়ে বরাদ্দ নিতে হবে কেন? শুরুতে যদি ডিও ছাড়া বরাদ্দ দেওয়া হয় তাহলে দ্বিতীয় দফায় ডিও লাগবে কেন?

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা সরকারি আদেশ (জিও) থেকে জানা যায়, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) অনুকূলে থোক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রায় ৭০ শতাংশ বাজেট বিলিবণ্টন করে মন্ত্রণালয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে নির্বাচিত সংসদ-সদস্যদের জন্য বরাদ্দের পরিমাণ কম রাখা হয়েছে। এরপরও ২৫ মার্চ এমপিদের অনুকূলে থোক বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ যাত্রায় ৩০০ আসনের সংসদ-সদস্যদের প্রত্যেকের জন্য কাবিটা ২৫ লাখ টাকা এবং টিআর ৩০ টন চাল-গম বরাদ্দ দেওয়া হয়।

অপরদিকে ৩০ এপ্রিল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ২২০ জন এমপির অনুকূলে ৮৫ লাখ টাকা এবং ৯০ টন চাল-গম বরাদ্দ দেওয়া বরাদ্দের ক্ষেত্রে সরকার দলের বাইরে কোনো সংসদ-সদস্য বরাদ্দ পাননি।

বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয়ের ভেতরে-বাইরে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। এছাড়া ২৪ মে সরকারদলীয় ৩৭ জন মহিলা সংসদ-সদস্যের অনুকূলে নগদ ৩০ লাখ টাকা এবং ৪০ টন চাল-গম বরাদ্দ দেওয়া হলেও বিরোধী দলের মহিলা সংসদ-সদস্যরা টাকা বা চাল-গম কিছুই পাননি।

মন্ত্রণালয়ের একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা যুগান্তরকে জানান, উন্নয়ন বরাদ্দ বা থোক বরাদ্দ যাই বলুন সবই সরকারি দলের চেয়ে বিরোধীরা কম পাবেন। এটা সরকারি সিদ্ধান্ত। এখন সরকার যদি কাউকে বরাদ্দ কম দেয় সে ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের কিছুই করার থাকে না। কেউ টুঁ শব্দও করতে পারবেন না। সরকারের ইচ্ছার বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই।

স্থানীয় সরকার বিভাগের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, বিরোধীদলীয় এমপিদের বরাদ্দ দেওয়ার ক্ষেত্রে হিসাব করে দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। কাগজপত্রে আদেশ জারি করা না হলেও মৌখিকভাবে বিষয়টি তাদের অবহিত করা হয়েছে।

Facebook
X
LinkedIn
Telegram
WhatsApp
Email