মাদক মামলায় তথ্যদাতাকে হুমকি, বিএনপি নেতা পদচ্যুত

মাদক মামলায় অভিযুক্ত ছেলের পক্ষ নিয়ে পুলিশের তথ্যদাতাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে খারনৈ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. গেদু মিয়াকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

রোববার (০৭ জুন) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক জিহাদ খান মিতুল।

এর আগে শনিবার (৬ জুন) রাতে উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক জিহাদ খান মিতুল স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং নৈতিক অবক্ষয়ের অভিযোগে গেদু মিয়াকে খারনৈ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম. এ. খায়ের ও সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান ভূঁইয়া যৌথভাবে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ মে উপজেলার উত্তর রানীগাঁও গ্রামের মাওলানা শফিকুল ইসলামের বাড়ির পেছনে মাদকদ্রব্যের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে বিদেশি মদসহ দুই কিশোরকে আটক করে। এ সময় আরও এক কিশোর পালিয়ে যায়। স্থানীয়দের দাবি, পালিয়ে যাওয়া ওই কিশোর গেদু মিয়ার ছেলে।

এ ঘটনায় উপ-পরিদর্শক (এসআই) নোমান বাদী হয়ে তিন কিশোরকে আসামি করে একটি মাদক মামলা দায়ের করেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার পর গেদু মিয়া তার ছেলের বিষয়ে পুলিশকে তথ্য দেওয়ার কারণ উল্লেখ করে তথ্যদাতা মাওলানা শফিকুল ইসলামকে মোবাইল ফোনে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। একই সঙ্গে তিনি শফিকুল ইসলামের মা ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন এবং প্রাণনাশের হুমকিও দেন। পরবর্তীতে একাধিকবার মোবাইল ফোনে হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি তার ছোট বোনের সম্মানহানির ভয়ও দেখানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

এদিকে গালিগালাজ ও হুমকির একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভাইরাল হওয়া ওই অডিওতে গেদু মিয়া ও তার ছেলের কথোপকথনে শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অশালীন ভাষা ব্যবহার এবং হুমকি দিতে শোনা যায় বলে দাবি করা হচ্ছে। অডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পরই দলীয়ভাবে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

Facebook
X
LinkedIn
Telegram
WhatsApp
Email