কিশোরগঞ্জে ছাত্রদল নেতার মাদক সেবনের ভিডিও ভাইরাল

কিশোরগঞ্জে এক ছাত্রদল নেতার ইয়াবা সেবনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর জেলা ছাত্রদল, বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

অভিযুক্ত রাকিবুল ইসলাম মামুন কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। সম্প্রতি তার মাদক সেবনের একটি ভিডিও ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দেয়।

ভাইরাল হওয়া প্রায় ৯ সেকেন্ডের ভিডিও ক্লিপটিতে দেখা যায়, গেঞ্জি ও লুঙ্গি পরিহিত অবস্থায় একটি কক্ষে বসে আছেন রাকিবুল ইসলাম মামুন। সেখানে তার মুখে পাইপ-সদৃশ একটি বস্তু এবং হাতে ফয়েল পেপার ও গ্যাসলাইট দেখা যায়। ফয়েল পেপারের নিচে আগুন জ্বালিয়ে ওপরের বস্তু থেকে তৈরি হওয়া ধোঁয়া তিনি পাইপের মাধ্যমে গ্রহণ করছেন—যা মূলত ইয়াবা সেবনের পরিচিত প্রক্রিয়া।

ভিডিও ধারণের সময় কক্ষে আরও কয়েকজন ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। উপস্থিতদের মধ্য থেকেই কেউ একজন ভিডিওটি ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। ভিডিওটি প্রকাশের পর তা দ্রুত বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও গ্রুপে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। অনেকে এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে মাদকবিরোধী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে মাদকের সঙ্গে জড়িত সবার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। তারা তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষায় প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের আহ্বান জানান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত রাকিবুল ইসলাম মামুন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি সম্পূর্ণ ভুয়া এবং এটি ‘এআই’ (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে। আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে এই অপপ্রচার চালাচ্ছে।” তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় তিনি কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন এবং বিষয়টি নিয়ে প্রযুক্তিগত তদন্ত চলছে।

এদিকে, কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শরীফুল ইসলাম নিশাদ বলেন, বিষয়টি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত এবং এর দায় সংগঠন নেবে না। তার ভাষায়, “যিনি অভিযুক্ত, তিনি বর্তমানে সংগঠনের নিয়মিত কার্যক্রমে যুক্ত নন এবং তাকে ইতোমধ্যে দলীয় কার্যক্রমে অংশ না নেওয়ার জন্য নিষেধ করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনে শৃঙ্খলাপূর্ণ ও দায়িত্বশীল মানুষ প্রয়োজন। নেশাগ্রস্ত বা অসংলগ্ন আচরণের ব্যক্তিরা কোনো সংগঠন বা সমাজের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে না।”

Facebook
X
LinkedIn
Telegram
WhatsApp
Email