নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় এক নারীকে প্রকাশ্যে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবদলের সাবেক নেতা মো. সফিকের বিরুদ্ধে। শনিবার (১৩ জুন) সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
অভিযুক্ত মো. সফিক মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। মারধরের শিকার নারীর স্বামী সফিকের মাছের খামারে কর্মরত ছিলেন।
ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, গত দুই মাস ধরে তার স্বামীর বেতন বকেয়া রেখেছেন সফিক। এমনকি পবিত্র ঈদুল আজহার সময়ও বেতন না পাওয়ায় তাদের পরিবারকে কষ্টের মধ্যে দিন কাটাতে হয়েছে। এ কারণে তার স্বামী পরে সফিকের খামারে কাজ করা বন্ধ করে দেন। এরপর থেকেই যুবদল নেতা তাদের পরিবারের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
ওই নারী জানান, শনিবার সকালে তার স্বামী বাড়ির পাশে নদীতে মাছ ধরার জন্য জাল বসান। এ সময় সফিক ওই জাল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তারা বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সফিক প্লাস্টিকের পাইপের ভেতরে লোহার রড ঢুকিয়ে তার স্বামীকে বেধড়ক মারধর করেন।
তিনি আরও বলেন, পরে বেলা ১১টার দিকে সফিক তার ভগ্নিপতি নূরে মাওলাকে সঙ্গে নিয়ে আবার তাদের বাড়িতে আসেন এবং তার স্বামীকে পুনরায় মারধর শুরু করেন। স্বামীকে রক্ষা করতে গেলে তাকেও মারধর করা হয়। একই সঙ্গে সফিক তার মাছের খামারে ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলেও অভিযোগ করেন ওই নারী।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত সফিকের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার সরাসরি বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে স্থানীয় এক গণমাধ্যমকর্মীর কাছে সফিক নারীকে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, ওই নারীর পরিবারের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে। কয়েক দিন আগে ওই নারীর স্বামী তার খামার থেকে মাছ চুরি করেছেন। শনিবার সকালে জাল নিয়ে আসার সময় ওই নারী ও তার স্বামী তার ওপর হামলা চালান। এতে তার নাক ফেটে যায় বলেও দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ লুৎফর রহমান বলেন, এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি দেখার পর পুলিশ ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। অভিযুক্ত সফিককে আটক করতে ইতোমধ্যে এলাকায় পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
