দৌলতপুরে যুবদল নেতার নেতৃত্বে অবৈধ ড্রেজার সিন্ডিকেট!

সাইফুল ইসলাম : মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ ড্রেজার বসিয়ে নদী থেকে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, খলশী ইউনিয়নের বিষ্ণপুর এলাকায় কালিগঙ্গা নদী এবং চকমিরপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবাধে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে, যার ফলে নদীভাঙন, কৃষিজমির ক্ষয় এবং পরিবেশগত ভারসাম্য বিপর্যস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আব্দুস সালামের নেতৃত্বে তার ভাগ্নে মো. রনি বিষ্ণপুর এলাকায় এবং মো. নান্নু রামচন্দ্রপুর এলাকায় অবৈধ ড্রেজার পরিচালনা করে আসছেন। প্রতিদিন নদীতে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করায় নদীর তলদেশ অস্বাভাবিকভাবে গভীর হয়ে যাচ্ছে। এতে তীরবর্তী বসতবাড়ি, গ্রামীণ সড়ক ও ফসলি জমি ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বছরের পর বছর ধরে চলা এ বালু উত্তোলন কার্যক্রমের কারণে নদীর পাড়ের বহু জমি ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে বিভিন্ন সময়ে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হলেও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা জানান, দিন-রাত ড্রেজার মেশিনের বিকট শব্দে এলাকার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। বর্ষা মৌসুম ঘনিয়ে আসায় নদীভাঙনের ঝুঁকিও বাড়ছে। তারা বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে নদী থেকে বালু তোলা হচ্ছে। এতে নদীর পাড়ের জমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কিন্তু প্রভাবশালী মহলের কারণে কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পান না।”

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার ছত্রছায়ায় অবৈধ এ কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় প্রশাসনের নজরদারি কার্যকর হচ্ছে না। ফলে নদী ও পরিবেশ রক্ষার প্রশ্নে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ দিন দিন বাড়ছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ড্রেজার ব্যবসায়ী মো. রনি ও মো. নান্নুর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কল রিসিভ করেননি। ফলে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আব্দুস সালাম বলেন, “রাজনীতি করলে অনেকেই আত্মীয় পরিচয় দেয়। ওই ড্রেজার ব্যবসায়ীরা আমার কেউ নয়। অপরাধী লোকজন কেউ কারো নয়।”

দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিয়ান নুরেন বলেন, “উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবৈধ ড্রেজারের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

Facebook
X
LinkedIn
Telegram
WhatsApp
Email