এবার ভুয়া ফটোকার্ডের রেফারেন্সে বক্তব্য দিলেন আইনমন্ত্রী

বাংলাদেশ সরকারের আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান দাবি করেছেন, বাজেটে মদ ও সিগারেটের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে স্লোগান দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১৭ জুন) সকাল সাড়ে ৯টায় ঝিনাইদহে একটি আধুনিক কসাইখানার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘‘অতীতে মিছিলের স্লোগান থাকতো এ বাজেট গরিবের, এ বাজেট মানি না। এ বাজেট গরীব মারার, এ বাজেট মানি না। এবার কিন্তু এই স্লোগান নাই। এবার স্লোগান কি? মদের দাম বাড়ানো কেন হলো? এবার স্লোগান কি? সিগারেটের দাম কেন বাড়ানো হলো?’’

দ্য ডিসেন্টের যাচাইয়ে দেখা গেছে, বাজেটে মদ ও সিগারেটের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে স্লোগান দেওয়ার দাবিটি সঠিক নয়। বাজেটের পর প্রতিক্রিয়ায় রাজধানীতে মিছিল করে জামায়াতে ইসলামী। মিছিলের ভিডিওগুলো যাচাই করে মদ ও সিগারেটের দাম বাড়ানো নিয়ে কোনো স্লোগান শোনা যায়নি।

মিছিলে ‘‘গণবিরোধী বাজেট, মানি না মানবো না’’, ‘‘গরীব মারার বাজেট, মানি না মানবো না’’, ‘‘মানুষ মারার বাজেট, মানি না মানবো না’’, ‘‘গণবিরোধী বাজেট, মানি না মানবো না’’, ‘‘পকেট মারার বাজেট, মানি না মানবো না’’, ‘‘বৈষ্যমের বাজেট, মানি না মানবো না’’, ‘‘লুটতরাজের বাজেট, মানি না মানবো না’’, ‘‘চুরি ডাকাতির বাজেট, মানি না মানবো না’’, গণবিরোধী বাজেট, মানি না মানবো না’’ সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।

বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের ভিডিও দেখুন এখানেএখানে ও এখানে

এর আগে গত ১৩ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কক্সবাজারে একটি সমাবেশে ‘‘মদ ও সিগারেটের উপর ট্যাক্স বাড়ানো বিরোধীদলের দুঃখ’’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “যে বাজেটের মাধ্যমে জনগণের জন্য স্বস্তির ব্যবস্থা করছে সরকার, সেই বাজেট বলে বিরোধী দল মানে না। তারা দাবি তুলেছে কেন মদের উপরে আমরা ট্যাক্স বাড়ালাম। তারা দাবি তুলেছে কেন আমরা সিগারেটের উপরে ট্যাক্স বাড়ালাম। এই তাদের দুঃখ।”

একইদিনে সন্ধ্যায় চকরিয়া উপজেলা বিএনপির আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘যারা মদের দাম বাড়লে প্রতিবাদ জানায়, সিগারেটের দাম বাড়ালে প্রতিবাদ জানায়। তারা কি জনগণের জন্য রাজনীতি করে?’’ বক্তব্যের আরেক অংশে তিনি বলেন, ‘‘যারা মদের উপর ট্যাক্স বাড়ানো নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে, যারা সিগারেটের ট্যাক্স বাড়ানো নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে…’’

দ্য ডিসেন্টে যাচাই করে দেখেছে, প্রধানমন্ত্রীর এই দাবিটি বিভ্রান্তিকর ছিল। বাজেটে মদ, সিগারেট বা তামাকজাত দ্রব্যের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে বিরোধী দল কোনো বক্তব্য দিয়েছে—এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বিরোধী দলগুলোর অফিশিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ওয়েবসাইট এবং সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন খুঁজেও এ ধরনের কোনো বক্তব্য মেলেনি।

তবে ফেসবুকে ছড়ানো একটি ভুয়া ফটোকার্ডের বার্তার সাথে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের মিল পাওয়া গেছে।

ফেসবুকে সংশ্লিষ্ট কি-ওয়ার্ড সার্চ করে দৈনিক কালের কণ্ঠের আদলে তৈরি ছড়ানো একটি ফটোকার্ড পাওয়া যায়। সেখানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একটি মিছিলের ছবি ব্যবহার করে দাবি করা হয়, “বাজেটে বিড়ি, সিগারেট, মদ, গাঁজা ও তামাকজাত দ্রব্যের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামীর তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল।”

ফটোকার্ডটি সম্বলিত পোস্ট দেখুন এখানেএখানে এবং এখানে

এই ফটোকার্ডটি ভুয়া। কালের কণ্ঠ এমন কোনো ফটোকার্ড প্রকাশ করেনি। কালের কণ্ঠের ওয়েবসাইটে এবং অন্যান্য সংবাদমাধ্যমে খুঁজেও এমন কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

ফেসবুকে ছড়ানো ভুয়া ফটোকার্ডটিতে তারিখ হিসেবে ১১ জুন উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু কালের কণ্ঠের অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজে ১১ জুন তারিখে উক্ত শিরোনামে কোনো ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে ১১ জুন প্রকাশিত আরেকটি ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায় যেটির শিরোনাম “প্রস্তাবিত বাজেটের প্রতিবাদে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল”।

এছাড়া ভাইরাল ফটোকার্ডে দৃশ্যমান মিছিলের ব্যানারে লেখা রয়েছে “বাজেটে বিড়ি, সিগারেট, মদ, গাঁজা ও তামাকজাত দ্রব্যের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল”।

কিন্তু জামায়াতের অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজ ও ইউটিউব চ্যানেল এবং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ওই মিছিলের ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়, ব্যানারে প্রকৃতপক্ষে লেখা ছিলো “গনবিরোধী ও লুটপাটের বাজেটের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল”।

দেখুন এখানেএখানে এবং এখানে

ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থা রিউমার স্ক্যানারও ১২ জুন এই ফটোকার্ডটিকে ভুয়া হিসেবে শনাক্ত করেছে। দেখুন এখানে

এর বাইরে বাজেট নিয়ে প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অফিশিয়াল ফেসবুক পেজেও মদ, সিগারেট, বিড়ি, গাঁজা বা তামাকজাত দ্রব্যের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কী-ওয়ার্ড দিয়ে সংবাদমাধ্যমে অনুসন্ধান করেও এমন কোনো প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।

জামায়াতে ইসলামী সরকারের প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে “অবাস্তবায়নযোগ্য, উচ্চাভিলাষী ও লুটপাটের সহায়ক” বলে আখ্যা দিয়েছে।

Facebook
X
LinkedIn
Telegram
WhatsApp
Email