চট্টগ্রামের বোয়ালখালী পৌরসভার বাসিন্দা মোহাম্মদ লোকমান। স্থানীয়ভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতির খুব পরিচিত মুখ তিনি। উপজেলার শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদের ২০১৬-১৭ সেশনের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন বলেও জানা গেছে প্রাথমিকভাবে। হাসিনা সরকারের এমপিসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের সাথে তার বিভিন্ন ছবি এখনও ভাসছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। আর গত ৫ই আগস্টের পটপরিবর্তনের সাথে সাথে অন্য আরো অনেকের মতো বদলে গেছেন তিনি। রাতারাতি হয়ে গেছেন বিএনপি। বিএনপির বিভিন্ন প্রোগ্রামে এখন সরব তিনি। লোকমান মীর পাড়া এলাকার মৃত রহমত আলীর পুত্র। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্থানীয় কাউন্সিলর ও স্থানীয় সাংসদকে ব্যবহার করে অবৈধভাবে শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। স্থানীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, চলতি আগস্ট মাসের ৫ তারিখও লোকমান স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ নাছের আলীকে ব্যবহার করে এলাকায় নৈরাজ্য চালিয়েছেন। কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বললে ধামকিসহ প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করতো তার সহচররা। এমনকি অনেককে মারধরের ঘটনা পর্যন্ত আছে। কিন্তু ৫ই আগস্ট বিকেলে সরকার পরিবর্তনের খবর পেয়ে, তিনি নিজে বিএনপি রাজনীতিতে যোগদান করেন। দক্ষিণ জেলা বিএনপির একাধিক সদস্যের সাথে ইদানীং তার সখ্যতা দেখা গেছে। একইসাথে এলাকায় নিজেকে এখন বিএনপি নেতা পরিচয় দেন। পূর্ব গোমদন্ডী মীর পাড়ার বাসিন্দা মো. ওমর ফারুক রুবেল বলেন, লোকমান ৫ আগস্টের আগে কাউন্সিলর নাছের ও এমপি’র সাথে সখ্যতা গড়ে নানা রাজনৈতিক কাজে যোগ দিতেন। কিন্তু ৫ই আগস্টের পর থেকে তিনি নিজেকে এলাকায় বিএনপি নেতা দাবি করেন। তবে তার সাথে আমাদের ব্যক্তিগত কোনো বিরোধ তৈরি হয়নি। লোকমান প্রতিটি কাজে কাউন্সিলর নাছেরসহ অন্যান্যদের ব্যবহার করতেন। নাছের ২০১৯ সালের অক্টোবর মাসে আমার চার তলা ভবন (২৭টি ফ্ল্যাট) দখল করে ভাড়া উত্তোলন করে নিজে ভোগ করতেন। সে বিষয়ে আমি তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলাও করেছি। সেনাবাহিনীর সহায়তায় গত কয়েকদিন আগে আমি আমার বাড়ি ফিরে পেয়েছি। এর আগে গত ৫ বছর ধরে মাসে ৮০ হাজার টাকা করে ভোগ করতেন তারা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেক ভুক্তভোগী বলেন, এলাকার কেউ তাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নিতো না। পুরো এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব চালিয়ে এসেছিল। কিন্তু তিনি আবার বিএনপি’তে যোগদান করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। তিনি আরও বলেন, কাউন্সিলর নাছেরের প্রতিবেশীর ঘর ডাকাতি ও লুটপাটেও কাউন্সিলর নাছের, লোকমান, নুরুল আমিন, আবছার, আলী ফকির, ইসমাইল হোসেন বাচা, সেলিমসহ কয়েকজন জড়িত ছিলেন। এসব লোকদের কারণে ওই এলাকায় কেউ কোনো স্থাপনা নির্মাণ করতে পারেনি। কেউ কিছু করলেই তাদেরকে চাঁদা দিতে হতো।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহানাজ সিদ্দিকা বলেন, গত রমজানের একদিন আগে কাউন্সিলর নাছেরসহ আমাদের পুকুর থেকে মাছ চুরি করে তারা। আমরা প্রতিবাদ করলেই উল্টো আমরা চাঁদা চাইছি বলে আমাকে ও আমার ছেলেকে মারধর করে। এলাকার গাছপালা জোর করে কেটে ফেলে বিক্রি করে দেয়া, টাকা আদায় ইত্যাদি হয়রানি করতো। তবে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা মো. লোকমান মানবজমিনকে বলেন, আমি ব্যবসা করে। যে কারণে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সাথে মিশে ছিলাম। তাদের সাথে কিছু ছবিও আছে। তাই বলে আমি আওয়ামী লীগ করিনি। আমার বিরুদ্ধে এখন একটা মহল প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে প্রোপাগাণ্ডা চালাচ্ছে। আমার বিরুদ্ধে যারা অপপ্রচার চালাচ্ছে, আমি তাদের বিরুদ্ধে মামলা করবো এখন বিএনপি করছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি ছোটকাল থেকেই বিএনপি সমর্থক। তাই এখন বিএনপির কয়েকটি প্রোগ্রামে গিয়েছি। এর বেশি আর কিছু হয়নি।
