তুই নিউজ কেন করলি—চট্টগ্রামে সাংবাদিককে যুবদল নেতার ‘হত্যার হুমকি’

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে প্রসূতি নারীর মৃত্যুর ঘটনায় সিলগালা ‘ফটিকছড়ি সেবা ক্লিনিক অ্যান্ড ল্যাব ইন’র আবারও চালু হওয়ার সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিককে হুমকি দিয়েছেন এক যুবদল নেতা।

গত ১৯ জুন দৈনিক মানবকণ্ঠের ফটিকছড়ি প্রতিনিধি শাহনেওয়াজ নাজিমকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ ওঠে যুবদল নেতা আহমেদ রশিদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিজের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে তিনি ফটিকছড়ি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন নাজিম।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি ওই ক্লিনিকের কার্যক্রম, লাইসেন্স ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়ে ‘দৈনিক ফটিকছড়ি সংবাদ’ নামের একটি ফেসবুক পেজে ধারাবাহিকভাবে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। এসব সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই সাংবাদিক শাহনেওয়াজ নাজিমকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভুক্তভোগী সাংবাদিকের অভিযোগ, গত ১৯ জুন ফটিকছড়িতে বিএনপির একটি কর্মসূচি চলাকালে যুবদল নেতা আহমেদ রশিদ চৌধুরী তাকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেন এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এ সময় তিনি সাংবাদিকের পাঞ্জাবির কলার ধরে টানাহেঁচড়া করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। কর্মসূচি চলাকালে সংঘটিত এ ঘটনায় উপস্থিত অনেকেই বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। এছাড়া অভিযুক্তকে একাধিকবার স্থানীয় সংসদ সদস্যের নাম ব্যবহার করতেও শোনা গেছে বলে দাবি করেন সাংবাদিক।

ঘটনার একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সাংবাদিকের প্রতি উত্তেজিত ও হুমকিমূলক ভাষায় কথা বলতে দেখা যায়।

সাংবাদিক শাহনেওয়াজ নাজিম বলেন, জনস্বার্থে তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে সংবাদ প্রকাশ করেছি। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এ ধরনের হুমকি ও লাঞ্ছনার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমি আমার জীবনের নিরাপত্তা এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছি।

ঘটনার নিন্দা জানিয়ে ফটিকছড়িতে কর্মরত সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেন, সংবাদ প্রকাশের কারণে একজন সাংবাদিককে হুমকি দেওয়া ও লাঞ্ছিত করা স্বাধীন গণমাধ্যমের ওপর সরাসরি আঘাত। সাংবাদিকরা যাতে নির্ভয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সে পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে যুবদল নেতা আহমেদ রশিদ চৌধুরী বলেন, তিনি একটি ফেসবুক পেজে সম্পূর্ণ মনগড়া ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রকাশ করে প্রতিষ্ঠানের মানহানি করার চেষ্টা করেছেন। তবে তাকে পেশাগত কারণে হুমকি দেওয়া বা লাঞ্ছিত করার অভিযোগ সত্য নয়।

ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল আলম খান বলেন, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Facebook
X
LinkedIn
Telegram
WhatsApp
Email