বিএনপি নেতার এক হাজার কোটি টাকার মানহানির মামলা, সাংবাদিক নেতা গ্রেফতার

স্থানীয় সাংবাদিক নেতা ও মুরাদনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম আরিফকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ

কুমিল্লায় বিএনপি নেতার দায়ের করা এক হাজার কোটি টাকার মানহানির মামলায় স্থানীয় সাংবাদিক নেতা ও মুরাদনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম আরিফকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বুধবার বিকালে তাকে গ্রেফতার করা হয়। প্রায় ২০ ঘণ্টা পর বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকালে উপজেলার গাইঢুলি এলাকা থেকে মুরাদনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলমকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মাহবুব আলম দীর্ঘদিন বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে কাজ করেছেন। বর্তমানে তিনি স্থানীয় একটি পত্রিকার মুরাদনগর প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত। পাশাপাশি তিনি নিজে একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যম পরিচালনা করেন।

গত বছরের ৭ জুলাই কুমিল্লার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিমের ১১ নম্বর আমলি আদালতে মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় তিনি দাবি করেন, সাংবাদিক মাহবুব আলমের প্রচারিত মিথ্যা তথ্যের কারণে তার এক হাজার কোটি টাকার মানহানি হয়েছে।

মামলার আরজিতে বলা হয়েছে, গত বছরের ২৭ জুন রাতে মুরাদনগরে সংঘটিত এক ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত ফজর আলীকে বিএনপির নেতা হিসেবে ‘মুরাদনগর লাইভ টিভি’ নামের ফেসবুক পেজে প্রচার করেন মাহবুব আলম ওরফে আরিফ। প্রকাশিত সংবাদটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়েছে, ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত ফজর আলী ও তার পরিবারের কেউ কখনও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ফজর আলী আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার আরজিতে আরও বলা হয়েছে, মাহবুব আলম আরিফ অনলাইন, ফেসবুক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট, মানহানিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য প্রচার করেছেন। তিনি ভুয়া ও মানহানিকর বক্তব্য দিয়ে বিএনপির বিরুদ্ধে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টির অপতৎপরতায় উসকানি দিয়েছেন। বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। তার প্রচারিত মিথ্যা সংবাদে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং দলের মানহানি করে আর্থসামাজিকভাবে এক হাজার কোটি টাকার ক্ষতি সাধন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে একটি মানহানির মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি ছিল। সেই পরোয়ানার ভিত্তিতেই গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে তিনি সাংবাদিক, এ বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না।’

তবে ওসির এমন বক্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ও জেলা পর্যায়ে কর্মরত সাংবাদিকরা। তাদের দাবি, মাহবুব আলম মুরাদনগরের একজন সুপরিচিত সাংবাদিক। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পেশাদারত্বের সঙ্গে সাংবাদিকতা করে আসছেন। রাজনৈতিক কারণে তাকে হয়রানি করা হচ্ছে। অবিলম্বে তাকে মুক্তি দিতে হবে।

Facebook
X
LinkedIn
Telegram
WhatsApp
Email