কলেজ কর্মীকে মারধরের অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে

সিলেটের ঐতিহ্যবাহী মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে এক কর্মচারীকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে কলেজ ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত আবিদুর রহমান এমসি কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। ভুক্তভোগী কর্মচারীর নাম জালাল উদ্দীন, তিনি কলেজ লাইব্রেরির অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত।

বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে কলেজের লাইব্রেরির ভেতর উচ্চস্বরে কথা বলতে নিষেধ করায় এই মারধরের ঘটনা ঘটে।

মারধরের অভিযোগটি ছাত্রদল নেতা আবিদুর রহমান অস্বীকার করলেও বিষয়টি সমাধান হয়েছে জানিয়ে স্বীকার করেন কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি খান মোহাম্মদ সামি।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুরে এমসি কলেজের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির ভেতরে বসে ছাত্রদল নেতারা একটি বৈঠক করছিলেন। এসময় তারা উচ্চস্বরে কথা বলায় লাইব্রেরিতে অধ্যয়নরত সাধারণ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটে। এতে শিক্ষার্থীরা বিরক্ত হয়ে বিষয়টি লাইব্রেরির কর্মচারী জালাল উদ্দীনকে জানান।

শিক্ষার্থীদের কথার পরিপ্রেক্ষিতে জালাল উদ্দীন ছাত্রদল নেতাদের কাছে গিয়ে নম্রভাবে লাইব্রেরির ভেতরে উচ্চস্বরে শব্দ না করতে এবং নীরবতা বজায় রাখার অনুরোধ জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কর্মচারীর এই অনুরোধে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন ছাত্রদল নেতা আবিদুর রহমান। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে জালালের ওপর চড়াও হন এবং চিৎকার করে বলেন, “তুই চিনস নানি আমরা যে ছাত্রদল?

এই বলেই তিনি জালাল উদ্দীনকে এলোপাতাড়ি থাপ্পড় ও ঘুষি মারতে শুরু করেন। একপর্যায়ে জালালকে আঘাত করার জন্য তিনি লাইব্রেরির চেয়ার উঁচিয়েও তেড়ে যান।

জানতে চাইলে সিলেট এমসি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি খান মোহাম্মদ সামি বলেন, সামান্য ভুল বুঝাবুঝি হয়েছিল। কথা-কাটাকাটি থেকে ঘটনাটি ঘটেছে।

মারধর করাটা ঠিক হয়নি বলে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা এবিষয়টি জিরো টলারেন্স নীতির মধ্যে আনার জন্য কাজ চলছে। এই ধরনের ঘটনার কোনো প্রশ্রয় দেওয়া হবে না অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার মতো কিছু হয়নি। কথার মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে।

এব্যাপারে জানতে সিলেটে মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ তোফায়েল আহমেদের মুঠোফোনে একাধিকবার কল ও খুদে বার্তা পাঠিয়ে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

Facebook
X
LinkedIn
Telegram
WhatsApp
Email