বাকিতে মালামাল না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে প্রকাশ্যে এক ব্যবসায়ীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, দোকান বন্ধ করে দেওয়ার ভয় দেখানো এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মানিকগঞ্জ জেলা শ্রমিক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শাহিনের বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব খাটিয়ে একজন ব্যবসায়ীকে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
রোববার (১৯ জুলাই) বেলা পৌনে ১১টার দিকে মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকার হলিগার্ডেন মার্কেটে অবস্থিত ইস্রাফিল মোটরসে এ ঘটনা ঘটে। পুরো ঘটনাটি দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মোটরসাইকেলে করে দোকানের সামনে এসে শাহিন দোকানের মালিক মো. মিলনকে উদ্দেশ্য করে উত্তেজিত আচরণ করেন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে দোকান থেকে বের হলে মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকিও দেন বলে অভিযোগ।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. মিলন জানান, শনিবার বিকালে এক ব্যক্তি শাহিনের নাম বলে তার দোকানে বাকিতে মবিল, ফিল্টারসহ বিভিন্ন পণ্য নিতে আসেন। তিনি বাকিতে পণ্য দিতে অস্বীকৃতি জানালে ওই ব্যক্তি শাহিন খানের সঙ্গে ফোনে কথা বলিয়ে দেন। ফোনের অপর প্রান্ত থেকে শাহিন খানও বাকিতে মাল দেওয়ার জন্য চাপ দেন। তিনি রাজি না হলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।
মিলনের ভাষ্য, ওই রাতেই শাহিন আরেকজনকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে এসে দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে হুমকি দেন, দোকান থেকে বের হলে তোকে মেরে ফেলব। আতঙ্কিত হয়ে রাতে স্বজনদের সহায়তায় তিনি বাড়ি ফিরে যান; কিন্তু পরদিন রোববার সকালেও শাহিন আবার দোকানে এসে একইভাবে গালিগালাজ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে যে কোনো সময় তার দোকানে হামলা, ভাঙচুর কিংবা তার ওপর শারীরিক আক্রমণ হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কায় রয়েছেন।
ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, বিষয়টি জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি মানবেন্দ্র বালোকে জানানো হলেও তাৎক্ষণিক কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং উভয়পক্ষকে মিলেমিশে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে ডিবির ওসি মানবেন্দ্র বালো বলেন, বিষয়টি তার জানা আছে। তবে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শ্রমিক দল নেতা মো. শাহিন ব্যবসায়ী মিলনের সঙ্গে সঙ্গে বাগবিতণ্ডার বিষয়টি স্বীকার করেন। বিষয়টি মিটমাটের চেষ্টা চলছে। দলীয় সাধারণ সম্পাদক উদ্যোগী হয়ে আপস করবেন বলে জানান তিনি। ডিবির ওসি তাকে ডেকে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি।
মানিকগঞ্জ জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক লিটন যুগান্তরকে বলেন, দলের একজন নেতার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ অনাকাঙ্ক্ষিত। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব দেখিয়ে ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও বাকিতে পণ্য আদায়ের চেষ্টায় তারা শঙ্কিত।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, এ ধরনের ঘটনার দ্রুত তদন্ত ও দ্রুত আইনি ব্যবস্থা না হলে সাধারণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা আরও বাড়বে।
