জাবিতে সাবেক শিক্ষার্থীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজের অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে

অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা জুনায়েদ আল ইসলাম © প্রতিনিধি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ক্যাম্পাসের এক সাবেক শিক্ষার্থীকে শিশুসন্তান ও পরিবারের সদস্যের সামনে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক রানিং শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে।

সোমবার (২০ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলসংলগ্ন টারজান চত্বরে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।

অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতার নাম জুনায়েদ আল ইসলাম। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ৫৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং আ ফ ম কামালউদ্দিন হল শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

ভুক্তভোগী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের ৪৫ ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী আফসানা জানান, তিনি তাঁর ছোট ভাই ও শিশুসন্তানকে নিয়ে মোটরসাইকেলে ক্যাম্পাসে ঘুরতে বের হয়েছিলেন। এ সময় একটি প্যাডেল রিকশাকে পাশ কাটাতে গিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা আরেকটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি হন। তবে এতে কোনো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি।

তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার পর মোটরসাইকেলে থাকা প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ৫৩ ব্যাচের এক শিক্ষার্থী ও তার সঙ্গে থাকা এক নারী শিক্ষার্থী ফিরে এসে তাঁর ছোট ভাইকে উদ্দেশ্য করে অশালীন ভাষায় কথা বলতে শুরু করেন। তিনি এর প্রতিবাদ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী তাঁর ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে শিশুসন্তানের সামনেই অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল করেন।

আফসানা আরও অভিযোগ করেন, ঘটনাস্থল থেকে চলে আসার পর শহীদ মিনার এলাকায় গিয়েও অভিযুক্ত শিক্ষার্থী তাদের অনুসরণ করেন। সেখানে তিনি তাঁর ছোট ভাইকে মারধরের হুমকি দিয়ে বলেন, শিশুটি সঙ্গে না থাকলে তাকে মেরে ফেলতেন। পরে আরও অশালীন ভাষায় গালাগাল করে দ্রুত মোটরসাইকেল চালিয়ে চলে যান।

তিনি জানান, এ ঘটনায় তিনি প্রক্টর অফিসে লিখিত অভিযোগ দায়ের করবেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী জাবির শিক্ষার্থী এহসান মাহমুদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক মন্তব্যে বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী উচ্চস্বরে অশালীন ভাষায় গালাগাল করছিলেন। উপস্থিত ব্যক্তিরা পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলেও তিনি তা উপেক্ষা করেন। এমনকি সঙ্গে শিশু রয়েছে এ কথা জানানো হলেও অভিযুক্ত এবং তার সঙ্গে থাকা নারী শিক্ষার্থী গালাগাল অব্যাহত রাখেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত জুনায়েদ আল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আত্মসমর্থন করে অভিযুক্ত জুনায়েদ আল ইসলাম দাবি করেন, ঘটনার সময় তিনি তাঁর সহপাঠী নুজহাত আজিম রায়াকে নিয়ে টারজান এলাকায় মোটরসাইকেলে যাচ্ছিলেন। এ সময় বিপরীত দিক থেকে একটি মোটরসাইকেল রং সাইড দিয়ে একটি রিকশাকে ওভারটেক করে আসে। তিনি সময়মতো ব্রেক করায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।

তিনি বলেন, ঘটনার পর বিষয়টি জানতে চাইলে মোটরসাইকেলের পেছনে বসা সাবেক শিক্ষার্থী তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং বলেন, “মরস তো নাই, লাগে তো নাই।” এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। তাঁর অভিযোগ, সাবেক শিক্ষার্থী ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা তাঁদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন।

গালাগালের বিষয়টি স্বীকার করে জুনায়েদ বলেন, এ জন্য তিনি আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী। তবে তার দাবি, মোটরসাইকেলটি রং সাইডে চলার জন্য অপর পক্ষ কোনো দুঃখ প্রকাশ করেননি।

এছাড়া তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর সহপাঠীর ছবি অনুমতি ছাড়া প্রকাশ করে অপমানজনক মন্তব্য করা হয়েছে এবং তাকেও মাদক কারবারিসহ বিভিন্ন অপবাদ দেওয়া হচ্ছে। তার দাবি, এ ঘটনায় তিনিও ও তার সহপাঠী মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্তের সঙ্গে থাকা নারী শিক্ষার্থী রায়া বলেন, সিনিয়র আপুরা মোটরসাইকেলটি ভুল পাশে চালাচ্ছিলেন। অল্পের জন্য দুর্ঘটনা এড়ানো গেছে। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে উল্টো তিনি আমাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন এবং বলেন, ‘আমরা তো মরিনি, তাহলে কী হয়েছে?’ এরপর কথা-কাটাকাটি হয়। বরং তিনিই আমাদের গালাগাল করেছেন।

Facebook
X
LinkedIn
Telegram
WhatsApp
Email