বিএনপি নেতার কার্যালয়ে পেটানো হচ্ছিল তরুণকে, বাধা দিতে এসে মারধরে দাদার মৃত্যু

বিএনপির এক নেতার কার্যালয়ের সামনে মুঠোফোন চুরির অভিযোগে বেঁধে পেটানো হচ্ছিল এক তরুণকে। সেখানে এসে বাধা দেন ওই তরুণের বৃদ্ধ দাদা। একপর্যায়ে বৃদ্ধকেই সড়কে ফেলে কিল-ঘুষি মারা হয়। হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তিনি মারা যান।

গতকাল রোববার রাত পৌনে ৯টার দিকে ময়মনসিংহের দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার হাটপাড়া গ্রামের বাদল মার্কেট–সংলগ্ন সড়কে এ ঘটনা ঘটে। নিহত নবী হোসেন (৭০) হাটপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

যাঁর কার্যালয়ের সামনে সালিসের নামে তরুণকে পেটানো হয়েছে, তাঁর নাম শামছুল ইসলাম ওরফে ফারুক। তিনি উপজেলার পাগলা থানা বিএনপির সাবেক সদস্য ও স্থানীয় উস্থি ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী। এর আগে গত বছর তাঁকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হলেও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তা প্রত্যাহার করা হয়।

স্থানীয় লোকজন ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাসখানেক আগে একই গ্রামের দুলাল মিয়ার ছেলে রবিন মিয়ার একটি মুঠোফোন চুরি হয়। সেই চুরির অভিযোগ আনা হয় গতকালের ঘটনায় নিহত নবী হোসেনের নাতি মো. রানার (২০) বিরুদ্ধে। তিন দিন আগে এলাকায় ফেরেন রানা। গতকাল সন্ধ্যার পর তাঁকে ধরে হাটপাড়া গ্রামের বাদল মার্কেট এলাকায় বিএনপি নেতা শামছুল ইসলামের কার্যালয়ের সামনে নিয়ে বাঁধা হয়।

সেখানে শামছুলের নেতৃত্বে সালিস বসিয়ে রানাকে মারধর শুরু হয়। একপর্যায়ে খবর পেয়ে রানার দাদা নবী হোসেন সেখানে গিয়ে নাতিকে মারধর করতে নিষেধ করলে হট্টগোল ও ধাক্কাধাক্কির সৃষ্টি হয়। নবী হোসেন সড়কে পড়ে গেলে তাঁর বুকে কয়েকটি কিল-ঘুষি মারা হয়। পরে স্থানীয় এক পল্লিচিকিৎসক তাঁকে প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা করে দ্রুত হাসপাতালে নিতে বলেন। স্বজনেরা রাত ১০টার দিকে তাঁকে গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার খবর পেয়ে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গফরগাঁও সার্কেল) মনতোষ বিশ্বাসের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল জড়িতদের ধরতে রাতেই এলাকায় অভিযানে যান। কিন্তু সবাই পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেননি। পুলিশ মরদেহ উদ্ধারের পর আজ সকালে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেলের মর্গে পাঠিয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে বক্তব্যের জন্য বিএনপি নেতা শামছুল ইসলামের মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। তবে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘অভিযুক্ত রানাকে বাড়ি থেকে তুলে এনে নির্যাতন এবং অভিযুক্ত রানার দাদা মোহাম্মদ নবী হোসেনকে মারধর ও নির্যাতনের ঘটনার সঙ্গে আমি কোনোভাবেই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অবগত ছিলাম না।’

শামছুল ইসলাম দাবি করেন, ‘ঘটনার দিন কিংবা তার আগে বা পরে কোনো দিনই আমার ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহৃত অস্থায়ী অফিসে কোনো প্রকার বিচার-সালিস হয়নি এবং আমি কোনো বিচার-সালিস করিনি।’

পাগলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, বিএনপি নেতা ও চেয়ারম্যান প্রার্থীর চেম্বারের সামনে নিয়ে মো. রানাকে বেঁধে মারধর করা হয়। এ সময় তাঁর দাদা গিয়ে বলেন, ‘এভাবে আস্তে আস্তে না মাইরা, একবারে মাইরা ফালাও।’ এ কথা বলতেই তাঁরা বৃদ্ধের ওপর চড়াও হন। পরে ধাক্কাধাক্কি ও ঘুষিতে আহত হলে বৃদ্ধের মৃত্যু হয়।

ওসি বলেন, ‘ঘটনার পর চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ জড়িত অন্যদের ধরতে আমরা অভিযানে যাই, কিন্তু সবাই পালিয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।’

Facebook
X
LinkedIn
Telegram
WhatsApp
Email