এক চোখ হারাতেই হলো ছাত্রদলের হামলায় আহত সেই আলিফকে

হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কর্মসূচিতে গত ২৮ জুলাই বাংলাদেম জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের বিভিন্ন নেতাকর্মী কর্তৃক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসময় চোখে রডের আঘাতে গুরুতর আহত জাতীয় ছাত্রশক্তির নবীগঞ্জ উপজেলা সংগঠক আলিফ চৌধুরী (১৯) এক চোখের অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালে (এনআইওএইচ) সম্পন্ন হওয়া এ অপারেশনের পরও তার আঘাতপ্রাপ্ত চোখের দৃষ্টিশক্তি ফেরানো সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এনসিপির সহযোগী সংগঠন নারী শক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিন।
নিজ ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এ বিষয়ে তিনি লেখেন, “আলিফের অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হল, তার বাম চোখের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। একটা চোখ চিরতরে আলো হারালো। ডান চোখটা ভালো আছে। এখন পোস্ট অপারেটিভ অবজারভেশনে থাকবে।”
অপারেশনের আগে দেওয়া এক পোস্টে মনিরা শারমিন ফেসবুক পোস্টে লিখেছিলেন, “আলিফকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে গেল। বন্ড সই করতে হবে। ওরা মা বাবা কেউ আসে নাই। ও নিজেই নিজের অভিভাবক। বন্ডে লেখা, বাম চোখের ইনজুরি আছে। দৃষ্টিশক্তি হারানোর সম্ভাবনা আছে। অপারেশন করতে কি রাজি? আমি ভয় পাচ্ছিলাম। তখন পর্যন্ত সে জানে না তার দৃষ্টিশক্তি হারানোর সম্ভাবনা আছে। জানলে মন দুর্বল করে কিনা! কিন্তু লিগ্যাল বিষয়, জানাতেই হবে।”
নারীশক্তির এ নেত্রী আরও বলেছিলেন, “সে জানার পর বলল, কোথায় সই করতে হবে? দেন। আমি ভয় পাচ্ছি না। হাসনাত, আসিফ ভাই যারাই দেখা করতে চাইছে, তাদের অপারেশনের পর দেখা করতে বইলেন, যাতে ভালভাবে দেখতে পাই।”
সবশেষে মনিরা শারমিন লিখেছিলেন, “ছেলেটা ব্যক্তিত্বের কঠোরতার কাছে হেরে গেলাম। পাহাড়সম সাহস ছেলেটার। খোদা, চিকিৎসাবিজ্ঞান যাতে ভুল হয়। তার দুই চোখেরই দৃষ্টিশক্তি থাকুক।”
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে ছাত্রদলের ঘটনায় গুরুতর আহত হন জাতীয় ছাত্রশক্তির নবীগঞ্জ উপজেলা কমিটির সংগঠক আলিফ চৌধুরী (১৯)। ঘটনার পর থেকে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
Facebook
X
LinkedIn
Telegram
WhatsApp
Email