সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের বিভিন্ন আইডি ও পেজ থেকে দাবি করা হচ্ছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্যসেন হল থেকে সমকামিতার অভিযোগে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের দুই সাথীকে আটক করা হয়েছে। এরকম কয়েকটি পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে, এখানে,। গত ৩০ জুলাই ‘Nokibul Islam Suman’ নামক একটি আইডি থেকে ছবিটি পোস্ট করে উল্লেখ করা হয়, “শিবিরের দুই সাথী সমকামিতার কারণে আজকে সূর্যসেন হল থেকে গ্রেপ্তার হয়েছে। এপিস্টিন ফাইলের মত জামাত-শিবির ফাইলও প্রকাশ পেয়ে যাচ্ছে। কোনদিন জানি শুনবো শিবিরের বড় নেতা হইতে গেলে জামাতের শীর্ষ নেতাদের সাথে প্রতিটা ছেলের পা**মারা খাইতে হয়! শিবির করা এতো সহজ না রে ভাই।” নিচে পোস্টটির স্ক্রিনশট দেখুন–

ফ্যাক্ট চেক: বুম বাংলাদেশ যাচাই করে দেখেছে, আলোচ্য দাবিটি সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মাস্টারদা সূর্য সেন হলে সমকামিতার অভিযোগে আটককৃত দুইজন শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা নেই। বরং আটককৃতদের একজন সূর্য সেন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী এবং তার আমন্ত্রণে আসা আরেকজন বহিরাগত। আটক করে তাদেরকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। আলোচ্য দাবির প্রেক্ষিতে কি ওয়ার্ড সার্চ করে “ঢাবির সূর্যসেন হলে সমকামিতার অভিযোগে আটক ২” শিরোনামে ‘সময়ের আলো’ পত্রিকার ওয়েবসাইটে একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। ৩০ জুলাই প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মাস্টারদা সূর্য সেন হলে সমকামিতার অভিযোগে এক আবাসিক শিক্ষার্থী এবং তার আমন্ত্রণে আসা এক বহিরাগত ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকালে হলের একটি কক্ষে এই ঘটনা ঘটে। মাস্টারদা সূর্য সেন হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মুখলেসুর রহমান জাবির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। স্ক্রিনশট দেখুন–

কি ওয়ার্ড সার্চ করে “সমকামী ব্যক্তিকে ডেকে আনা ঢাবির সেই ছাত্র হল থেকে বহিষ্কার” শিরোনামে অনলাইন ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘জাগোনিউজ’ এর ওয়েবসাইটে আরো একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। ৩০ জুলাই প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মাস্টার দা সূর্যসেন হলে সমকামিতায় জড়ানোর অভিযোগে আটক হওয়া এক শিক্ষার্থীকে হল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উপস্থিতিতে তাকে তার বিভাগের ছাত্র উপদেষ্টার জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়। হল প্রশাসন এরই মধ্যে ওই শিক্ষার্থীকে হল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীর কাছ থেকে লিখিত অঙ্গীকার নেওয়া হয়েছে যে ভবিষ্যতে তিনি এ ধরনের কোনো ঘটনার সঙ্গে জড়িত হবেন না। শর্তভঙ্গ করলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও স্থায়ী বহিষ্কারের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। স্ক্রিনশট দেখুন–

আলোচ্য প্রতিবেদনগুলোতে আটককৃত দুই ব্যক্তির সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক পরিচয় খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়া কোনো গ্রহণযোগ্য মাধ্যমে এই দুই ব্যক্তির কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত থাকার তথ্য পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ, সমকামিতার অভিযোগে আটক হওয়া দুই ব্যক্তির শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা নেই। বরং তাদের একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্য সেন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী এবং অপরজন বহিরাগত। সুতরাং সমকামিতার অভিযোগে আটককৃত দুইজনকে শিবিরের সাথী দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে ফেসবুকে, যা বিভ্রান্তিকর।
