রাজধানীর বকশীবাজারে সরকারি ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার আবাসিক হলের সিট দখলকে কেন্দ্র করে ইসলামী ছাত্রশিবির ও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় উভয় পক্ষ ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় জড়িয়ে পড়ে। এ হামলায় যুবদল নেতা রবিউল ইসলাম নয়নের সাথে দেখা গেছে আলোচিত তোফাজ্জল হত্যা মামলার পলাতক আসামি শেখ রমজান আলী রকিকে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে প্রথম দফায় সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। কিছু সময় পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আবারও দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসায় এ সময় যুবদল নেতা নয়নের সঙ্গে তাকেও শিবিরের বিরুদ্ধে লড়তে দেখা যায়।
ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, মাথায় হেলমেট ও হাতে জি আই পাইপ নিয়ে সাদা পাঞ্জাবিতে নয়ন সংঘর্ষের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। পাশেই রয়েছেন শেখ রমজান আলী রকি। তিনি তোফাজ্জল হত্যা মামলার পলাতক আসামি।
জানা যায়, রকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হল সংসদের সহ-সভাপতি। এছাড়াও ভূতত্ত্ব বিভাগের ২০১৭-১৮ সেশনের শিক্ষার্থী। তার হলে থাকার কথা না থাকলেও যুবদল নেতা নয়নের ঘনিষ্ঠতার কারণে তিনি হলে অবস্থান করছেন। তিনি ২০২৫ সালে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল থেকে ভিপি পদে নির্বাচনও করেছেন।
উল্লেখ্য, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলে মোবাইল চুরির সন্দেহে মানসিক ভারসাম্যহীন তোফাজ্জল হোসেনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনার দিন প্রথম দফা মারধরের পর রক্তাক্ত তোফাজ্জলকে ক্যান্টিনে ভাত খাওয়ানো হয়। মামলার ৫ নম্বর আসামি আদালতে স্বীকার করেন, তিনি নিজেই তোফাজ্জলকে খেতে বসান। কিন্তু খাওয়ার পরপরই রকিসহ অন্য ঘাতকরা দ্বিতীয় দফায় স্টাম্প দিয়ে পিটিয়ে তোফাজ্জলকে হত্যা করে।
১০ মার্চ ২০২৬ আদালত পিবিআইয়ের ২৮ জনের চার্জশিট গ্রহণ করেন। বর্তমানে মামলার অন্য আসামি ওয়াজিবুল জামিনে থাকলেও রকিসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি রয়েছে। কিন্তু পলাতক এই আসামি ক্যাম্পাসে থেকে ছাত্রদল-যুবদলের সঙ্গে সক্রিয় থাকায় নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
পরোয়ানাভুক্ত ২২ শিক্ষার্থী হলেন— ফিরোজ কবির, আব্দুস সামাদ, সাকিব রায়হান, ইয়াছিন আলী গাইন, ইয়ামুজ্জামান ইয়াম, ফজলে রাব্বি, শাহরিয়ার কবির শোভন, মেহেদী হাসান ইমরান, রাতুল হাসান, সুলতান মিয়া, নাসির উদ্দিন, মোবাশ্বের বিল্লাহ, শিশির আহমেদ, মহসিন উদ্দিন শাফি, আবদুল্লাহিল কাফী, শেখ রমজান আলী রকি, রাশেদ কামাল অনিক, মনিরুজ্জামান সোহাগ, আবু রায়হান, রেদওয়ানুর রহমান পারভেজ, রাব্বিকুল রিয়াদ ও আশরাফ আলী মুন্সী। তারা সবাই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
