বগুড়ার নবগঠিত মোকামতলা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটিতে যুবলীগের এক নেতার নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়াকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা ও পদ পাওয়া ওই ব্যক্তির নাম জাহাঙ্গীর আলম। তিনি মোকামতলা উপজেলার দেউলী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ২২ মার্চ অনুমোদিত দেউলী ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির দুই নম্বর সদস্য হিসেবে তার নাম ছিল। জানা গেছে, রোববার (২ আগস্ট) মোকামতলা উপজেলা বিএনপির ৩২ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে প্রবীণ বিএনপি নেতা মাহমুদ হাসান তৌফিককে আহ্বায়ক, মাহবুবুল আলম মানিককে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং রোকন উদ্দৌলা রুবেলকে সদস্য সচিব করা হয়। বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।
ঘোষিত কমিটিতে ২৩ নম্বর সদস্য হিসেবে রাখা হয় জাহাঙ্গীর আলমকে। কমিটিতে স্থান পাওয়ার পর তিনি নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া প্রকাশ করেন এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পাশাপাশি দলীয় নেতৃত্বের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং দলের আদর্শ বাস্তবায়নে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
তবে তার এই পদ পাওয়ার পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেউলী ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির একটি তালিকা ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে জাহাঙ্গীর আলমের নাম দুই নম্বর সদস্য হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়।
এ বিষয়ে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমি আগে কোনো দল-পার্টি করিনি। ২০২০ সালে বিদেশে চলে যাই। দেশে ফিরে ২০২৩ সালে ইউপি সদস্য নির্বাচিত হই। তখন চেয়ারম্যান ছিলেন আওয়ামী লীগের নেতা জাহিদুল ইসলাম। এলাকার স্বার্থে তার সঙ্গে চলাফেরা করেছি। কিন্তু আমি কখনো যুবলীগের কোনো কমিটিতে ছিলাম না। যে কমিটির কাগজ দেখানো হচ্ছে, সেটি ভুয়া।’
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে মোকামতলা উপজেলা বিএনপির নবনির্বাচিত সদস্য সচিব রোকন উদ্দৌলা রুবেলের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
তবে উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুবুল আলম মানিক দাবি করেন, ‘জাহাঙ্গীর আলম দীর্ঘদিন ধরেই আমাদের সঙ্গে রাজনীতি করছেন। আমি যতদিন ধরে তাকে চিনি, ততদিন থেকেই তিনি বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত। রোজার ইফতার আয়োজন থেকে শুরু করে নির্বাচনী কার্যক্রম সব সময়ই তিনি আমাদের সঙ্গে ছিলেন। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই।’
