কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার মসূয়া ইউনিয়নের কাজীরচর এলাকায় তিতাস গ্যাসের মূল সঞ্চালন পাইপলাইন থেকে অবৈধ গ্যাস সংযোগ নেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম মিলনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। তবে তিনি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এদিকে স্থানীয়দের দাবি, প্রভাবশালী মহলের সম্পৃক্ততার কারণে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য আত্মগোপনে রয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।
স্থানীয় সূত্র ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় দুই মাস আগে সুনামগঞ্জের ছাতক এলাকার দেলোয়ার হোসেনসহ কয়েকজন ব্যক্তি কাজীরচর এলাকায় একটি চুনাপাথরের কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেন। এ সময় স্থানীয় ইউপি সদস্য মাজহারুল ইসলাম মিলনের সহযোগিতায় জমি ভাড়া নেওয়া এবং শ্রমিকদের থাকার ব্যবস্থা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তিন বছরের জন্য জমি ভাড়ার চুক্তিও সম্পন্ন হয়।
অভিযোগ রয়েছে, কারখানা চালুর উদ্দেশ্যে একটি চক্র তিতাস গ্যাসের মূল সঞ্চালন পাইপলাইনে ছিদ্র করে অবৈধ সংযোগ নেয়। প্রায় দেড় মাস আগে পাইপলাইনে গ্যাস লিকেজ দেখা দিলে বিষয়টি তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত না করে গোপনে মেরামতের চেষ্টা করা হয়। পরে বর্ষার পানিতে গ্যাসের বুদবুদ দেখা গেলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
এ ঘটনায় গত ৩ আগস্ট রাতে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ দুজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ১০ জনকে আসামি করে কটিয়াদী মডেল থানায় মামলা করে। মামলায় প্রায় ৫ কোটি ৪০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কারখানার জন্য জমি ভাড়ার সঙ্গে একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকলেও মামলায় মাত্র একজন জমির মালিকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। রহস্যজনকভাবে ইউপি সদস্য মাজহারুল ইসলাম মিলন ও তার ফুফাতো ভাই সুলতান উদ্দিনের নাম মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তারা।
কাজীরচর বাজারের ব্যবসায়ী আবুল হোসেন বলেন, কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তি নিয়মিত বাজারে আসতেন এবং নিজেদের চুনাপাথরের কারখানার শ্রমিক হিসেবে পরিচয় দিতেন। পরে তিনি দেখেন, কারখানায় দ্রুত কাজ চলছে। তাঁর দাবি, কারখানার আড়ালে তিতাস গ্যাসের প্রধান পাইপলাইনে অবৈধ সংযোগ নেওয়া হয়েছিল। বর্ষাকালে নদীতে গ্যাসের বুদবুদ দেখা যাওয়ার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
স্থানীয় বাসিন্দা দুলাল মিয়া বলেন, সেখানে একটি চুনাপাথরের কারখানা নির্মাণ হচ্ছে বলে তারা জানতেন। তবে রাতের অন্ধকারে কাজ হওয়ায় বিস্তারিত কিছু বুঝতে পারেননি। বর্ষাকালে নদীর পানি বাড়ার পর গ্যাসের বুদবুদ দেখে এলাকাবাসীর সন্দেহের সৃষ্টি হয়।
আরেক বাসিন্দা মনির হোসাইন বলেন, কারখানায় সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল। বিপুল পরিমাণ চুনাপাথর এনে কয়েকটি চুল্লি নির্মাণ করা হলেও ভেতরে কী কাজ চলছিল, তা কেউ জানতে পারেননি।
অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম মিলন বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়। জমির মালিকরা নিজেরাই জমি ভাড়ার চুক্তি করেছেন। এ ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এ বিষয়ে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
