জামায়াত কর্মীদের সঙ্গে যুবলীগ-যুবদলের সংঘর্ষ, আহত ১১

আহত কয়েকজন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন

নোয়াখালীর চাটখিলে জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদের সঙ্গে যুবলীগ কর্মীদের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে যুবলীগ কর্মীদের সঙ্গে যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদেরও দেখা গেছে। গতকাল রোববার বিকেলে উপজেলার হাটপুকুরিয়া ইউনিয়নে প্রথম দফায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মী সামির হোসেনকে (২৫) পেটানো হয়। তারা থানায় অভিযোগ দিয়ে ফেরার পথে তাদের ওপর হামলা হয় বলে অভিযোগ করেন। এজন্য জামায়াত নেতারা স্থানীয় যুবলীগ, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দায়ী করেছেন। এ সময় দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১১ জন আহত হন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জামায়াতে ইসলামীর কর্মী সামির হোসেনের সঙ্গে যুবলীগের কিছু কর্মীর নানা বিষয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। এর জেরে রোববার বিকেল ৫টার দিকে হাটপুকুরিয়া বিদ্যালয়ের সামনে তাঁকে মারধর করা হয়। জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা এর প্রতিবাদ জানালে তাদের সঙ্গে যুবলীগ, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের তর্কাতর্কি হয়।

উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মহিউদ্দিন হাসানের অভিযোগ, স্থানীয় যুবলীগ কর্মী মো. সোহাগ ও হাছান পাটোয়ারীর নেতৃত্বে প্রথম দফায় সামিরকে পেটানো হয়। পরে তারা নেতাকর্মীদের নিয়ে থানায় অভিযোগ দিতে যান। সেখান থেকে ফেরার পথে রাত ৯টার দিকে থানার সামনেই আবারও যুবলীগের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে যুবলীগ নেতাকর্মীদের পাশাপাশি যুবদল ও ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মীকেও দেখা গেছে। হামলায় জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের সামির হোসেন, রবিউল হোসেন (৩৪), শাহিন আলম (২৬), মো. সুজন (৩০) ও রিপাত ইসলাম (২৩) আহত হন।

তবে যুবলীগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্রের দাবি, জামায়াতের হামলায় তাদের ৬ কর্মী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে সোহাগ ও হাছান পাটোয়ারীর নাম জানালেও অন্যদের নাম-ঠিকানা জানা যায়নি।

উভয়পক্ষের আহত ব্যক্তিরা চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বেসরকারি কয়েকটি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ বিষয়ে যুবদলের কোনো নেতাকর্মীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফরিদ আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মিটিংয়ে আছেন। পরে জানাবেন। উপজেলা বিএনপির সদস্য ও হাটপুকুরিয়ার বাসিন্দা তারেক আজিজ শিপনের ভাষ্য, ঘটনার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।

এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জানান দলের উপজেলা আমির মহিউদ্দিন হাসান। চাটখিল থানার ওসি আবদুল মোন্নাফ বলেন, যুবদল ও বিএনপির পক্ষে দুটি অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল, পরে তারা অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেন।

Facebook
X
LinkedIn
Telegram
WhatsApp
Email