লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের মিয়ারহাট এলাকায় সরকারি বরাদ্দের অর্থে সংস্কার করা একটি খালের মুখে বাঁধ দেওয়ার অভিযোগ। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের মিয়ারহাট এলাকায় সরকারি বরাদ্দের অর্থে সংস্কার করা একটি খালের মুখে বাঁধ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল আজিজ বাদশার বিরুদ্ধে।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, খালের মুখ বন্ধ করে দেওয়ায় পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে। এতে প্রায় ৩ হাজার ৬০০ শতাংশ কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে জমিতে পানি জমে থাকায় চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি তাদের।

স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মিয়ারহাট বাজারের দক্ষিণ পাশে রাস্তার দৈর্ঘ্য প্রায় ৫৯০ ফুট। ওই রাস্তা নির্মাণে কাবিখা প্রকল্পের আওতায় বরাদ্দ ছিল প্রায় ২ লাখ টাকা।

সরেজমিন দেখা যায়, খালের আশপাশের বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে পানি জমে আছে। কোথাও ধানখেত পানিতে তলিয়ে রয়েছে, আবার কোথাও দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় জমি চাষের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। স্থানীয় কৃষকরা জানান, ওই এলাকার জমির পানি নিষ্কাশনের জন্য নবীর খালটি গুরুত্বপূর্ণ। খালের মুখে বাঁধ থাকায় বৃষ্টির পানি ও কৃষিজমির অতিরিক্ত পানি স্বাভাবিকভাবে বের হতে পারছে না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কৃষক বলেন, জমির পানি বের হওয়ার জন্য এই খালটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। খালের মুখ বন্ধ থাকায় জমিতে পানি জমে আছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করলে আমরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ব।

স্থানীয়দের ভাষ্য, খালের মুখে বাঁধ দেওয়ার কারণে শুধু চলতি মৌসুমের কৃষিকাজই ব্যাহত হচ্ছে না, ভবিষ্যতেও ওই এলাকার কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তারা দ্রুত বাঁধ অপসারণ করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে আমিনুল আজিজ বাদশার বিরুদ্ধে এর আগেও জমি দখলের অভিযোগ ওঠার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় কয়েকজন। ২০২৫ সালের ২০ ডিসেম্বর রাতে দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের মেঘনার পাড়ের মিয়ারহাট এলাকায় বৃদ্ধ নিজাম মিয়া ও তার চার সন্তানের প্রায় ৬২ লাখ টাকা মূল্যের জমিতে ঘর তুলে দখলের অভিযোগ করেছিলেন তারা। এ ঘটনায় স্থানীয় লোকজনের একাংশ প্রতিবাদও করেন। চরে কৃষকের জমি দখলের অভিযোগের প্রতিবাদে রায়পুর-লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক সড়ক বন্ধ করে মানববন্ধন করার কথাও জানান স্থানীয়রা।

খালের মুখে বাঁধ দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আমিনুল আজিজ বাদশা বলেন, রাজনৈতিক কারণে জমি দখলের বিষয় মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হচ্ছে, আর আমি খালের মুখ বাঁধ দিয়েছি, সমস্যা কী ? আপনাকে এখানে আনছে কে, নাম বলেন। আমাকে নিয়ে এত খোঁচাখুঁচি করেন কেন? আপনার যা ইচ্ছা তাই লেখেন।

এ বিষয়ে রায়পুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেহেদী হাসান কাওছার বলেন, খোঁজ খবর নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কৃষকদের দাবি, খালের মুখে বাঁধ দেওয়ার বিষয়টি প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরেজমিন তদন্ত করে প্রকৃত অবস্থা নির্ধারণ করা হোক। পাশাপাশি জলাবদ্ধতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষিজমির পানি দ্রুত নিষ্কাশন এবং সরকারি খাসজমি দখলের অভিযোগ তদন্ত করে দখল হয়ে থাকলে তা উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

Facebook
X
LinkedIn
Telegram
WhatsApp
Email