ছাত্রশক্তির নেতাকে মারধরের অভিযোগ ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে

ছাত্রশক্তির নেতাকে মারধরের অভিযোগ ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে © সংগৃহীত

হল দখল ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে ছাত্রশক্তির এক নেতাকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য রিফাত হোসেন ফেসবুক লাইভে এসে ছাত্রশক্তির নেতাকে পোস্ট দেওয়ায় জন্য জোরপূর্বক ক্ষমা চাইতে বাধ্য করেন।

শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুর ২টায় ঢাকা কলেজের হল মাঠে এই মারধর ও হেনস্তার এ ঘটনা ঘটে।

মারধরের শিকার ভুক্তভোগী মো. রিফাত  জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা কলেজ শাখার নেতা। অন্যদিকে হামলায় নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ উঠা ছাত্রদলের নেতারা হলেন ঢাকা কলেজ ছাত্রদল আহ্বায়ক সদস্য রিফাত হোসেন, ওহীদ ফরাজী ও ছাত্রদল কর্মী তামিম হোসেন। এছাড়াও ১৫-২০ ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হামলায় অংশ নিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা কলেজ শাখার নেতা মো. রিফাত বলেন, কলেজের হলপাড়ায় দুপুর ২টার দিকে খাওয়ার জন্য গিয়েছিলাম। ওই মুহূর্তে দুই মাস আগের ‘হল দখল এবং নিউমার্কেটে ফুটপাতের চাঁদাবাজির’ বিষয়ে একটা পোস্ট দেওয়ার সূত্র ধরে আজকে আমাকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা স্ট্যাম্প দিয়ে মারছে। আমার মাথায় চড়, থাপ্পড়, কিল-ঘুসি মারছে। ঢাকা কলেজের হল মাঠে আমাকে প্রায় ১০-১৫ মিনিট ধরে মারছে।

তিনি বলেন, ছাত্রদলের রিফাত হোসেন প্রথমে আমাকে মারার জন্য তাদের পোলাপানদের উস্কায় দিছে। এরপর আমার জুনিয়র ছাত্রদলের ওহীদ ফরাজি মারার নেতৃত্ব দিছে। পঞ্চাশ থেকে ষাটজন আমাকে মারছে সবার নাম জানি না।

হামলাকারীদের শাস্তি দাবি করে তিনি বলেন, আমি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াতে প্রক্রিয়ার বিশ্বাসী। কেউ তো জোরপূর্বক হল দখল করতে পারে না। শিক্ষার্থীদের হল থেকে বের করে দিতে পারে না। এর বিরুদ্ধে যখন ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার কররণে আমাদের উপর এরকম হামলা হয়েছে। এটা তো হতে পারে না। প্রশাসন জড়িতদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়না। আমার ওপর হামলারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

হামলায় অভিযুক্ত ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য রিফাত হোসেন বলেন, পূর্বে সে আমার বিরুদ্ধে ফেসবুকে মিথ্যা পোস্ট দিয়েছিল। সে আমার কাছে ক্ষমা চেয়েছে। আজ কে বা কাহারা তাকে মারধর করেছে আমি জানি না। আমি তাকে আরও বাঁচানোর চেষ্টা করেছি। আমি তাকে ক্যাম্পাস থেকে নিরাপদে বের করে দিয়েছি।

আরেক অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা ওহীদ ফরাজির বক্তব্যের জন্য মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা যায়নি।

এ বিষয়ে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের সদস্য সচিব মিল্লাদ হোসেন বলেন, ঘটনাটি আমি শুনেছি। সেখানে মারামারির মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। কথা কাটাকাটির মতো একটা ঘটনা ঘটেছে। পরে ক্যাম্পাসের সিনিয়র যারা আছেন, তারা দুজনকেই মিলিয়ে দিয়েছেন।

Facebook
X
LinkedIn
Telegram
WhatsApp
Email