কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় সংসদ সদস্যর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে বাড়ি ফেরার পথে নারান্দী ইউনিয়ন ছাত্রদলের ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক রাজু আহমেদ রাজিবের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে নারান্দী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক সাজুর বিরুদ্ধে।
উপজেলার নারান্দী ইউনিয়নের জামতলা বাজার এলাকায় মঙ্গলবার রাত পৌনে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। হামলায় আহত রাজু আহমেদ রাজিব পূর্ব নারান্দী গ্রামের মো. সায়েব আলীর ছেলে। বর্তমানে তিনি পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি আছেন।
আহত রাজিবের অভিযোগ, কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দীনের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে রাতে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। জামতলা বাজার এলাকায় পৌঁছালে নারান্দী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক সাজুর নেতৃত্বে কয়েকজন তার ওপর হামলা চালান।
হামলার একপর্যায়ে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে একটি দোকানে নিয়ে আশ্রয় দেন। সেখানেও হামলাকারীরা গিয়ে তাকে মারধর করেন। পরে স্থানীয়রা হামলাকারীদের সরিয়ে দিয়ে গাড়িতে করে তাকে পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
হামলার কারণ সম্পর্কে রাজিব বলেন, হামলাকারীরা একটি ফেক আইডি ব্যবহার করে বহিষ্কৃত এক নেতার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ করেন। তবে তিনি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
রাজিব বলেন, ‘কেন আমার ওপর হামলা করা হয়েছে, সেটি আমি এখনও সঠিকভাবে জানি না। যদি প্রমাণ হয় যে আমি কোনো অপরাধ করেছি, তাহলে বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে যে শাস্তি দেওয়া হবে, আমি তা মেনে নেব।’
তিনি আরও জানান, চব্বিশের জুলাইয়ে আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর ৬ আগস্ট তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান। বর্তমানে তিনি নারান্দী ইউনিয়ন ছাত্রদলের ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
নারান্দী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সদস্যসচিব মোহাম্মদ রবিউল আউয়াল রবি বলেন, ‘রাজু আহমেদ রাজিব আমার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযোদ্ধা। গত রাতে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দীনের বাসা থেকে ফেরার পথে তার ওপর হামলার খবর পাই। পরে রাজিবের কাছ থেকে জানতে পারি, নারান্দী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক সাজুর নেতৃত্বে এ হামলা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘হামলার পর আমি তাকে হাসপাতালে ভর্তি করি। পরে একটি নম্বর থেকে ফোন করে আমাকে রাজিবকে হাসপাতালে কেন ভর্তি করেছি, এ নিয়ে প্রশ্ন করা হয় এবং হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’
তবে হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নারান্দী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক সাজু। তিনি বলেন, ‘আমি ৩৭ বছর ধরে রাজনীতি করছি। এই দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে যদি কাউকে একটি ফুলের টোকাও দিয়ে থাকি, তার প্রমাণ থাকলে আমার সামনে উপস্থাপন করুন। কারও গায়ে আমি হাত তুলেছি, এমন কোনো প্রমাণ যদি দিতে পারেন, তাহলে আমি নিজেই কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে হাজিরা দিয়ে জেলে যাব।’
এ বিষয়ে পাকুন্দিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান বলেন, ‘এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
অন্যদিকে কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দীন বলেন, ‘রাজু আহমেদ রাজিবের সঙ্গে কথা বলেছি। তবে সে আমাকে হামলার ঘটনায় এনামুল হক সাজু জড়িত থাকার কথা বলেনি; অন্য দুজনের কথা বলেছে। তাই সাজু এ ঘটনায় জড়িত কি না, তা আমার জানা নেই। যারা হামলার সঙ্গে জড়িত, আমি তাদের নিন্দা জানাই এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ শাস্তির দাবি জানাই।
