বাউফলে মহিষ চড়ানোর চাঁদা না পেয়ে চরের ঘাসে বিষ, কৃষকদের ‘সর্বনাশ’

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার নদীবেষ্ঠিত দুর্গমচরে মহিষ চড়ানোকে কেন্দ্র করে চাঁদা না পেয়ে দুর্বৃত্তদের ঘাষে বিষ দেওয়ার ঘটেছে। গত শুক্রবার (২৮ আগস্ট) উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় ৩০টি মহিষ অসুস্থ হয়ে পড়ে, যার মধ্যে তিনটি মারা যায়। বাকি মহিষ গুলোর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

এদিকে মাঠে চড়াতে যাওয়া ঘাসে বা খাদ্যে বিষাক্ত পদার্থ মিশিয়ে এই ‘নৃশংসতা’ চালানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর।

স্থানীয় ও গণমাধ্যম সূত্রে, বাউফল উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চরাঞ্চলে সরকারি খাস জমিতে মহিষ চড়ান স্থানীয় খামারিরা। তারা এখানে কোন প্রকার অর্থ ছাড়াই মহিষ চড়াতেন। হঠাৎ করে তৈরি হলো নতুন নিয়ম। চরের খাস জমিতে মহিষ চড়াতে গেলে মাসে চাঁদা হিসেবে খামারিদের দিতে হবে মহিষ প্রতি ২০০ টাকা। আর টাকা না দিলে মহিষগুলোকে ঘাস খাওয়াতে দেয়া হয় না বলে জানা গেছে।

তারা আরো জানান, বাধ্য হয়েই মাসে মহিষ প্রতি ২০০ টাকা করে দিতে হচ্ছে। এভাবে ৪৭৮টি মহিষের জন্য দিতে হচ্ছে মাসে ৯৫,৬০০টাকা। এতে লোকসানে পড়ছেন খামারিরা। আর নতুন এই চাঁদা প্রথার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় মাইনুদ্দিন নামে এক সাবেক ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে।

এদিকে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত সাবেক ছাত্রদল নেতা মাইনুদ্দিন। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, জেলেদের মাছ ধরার চাই ভেঙে ফেলে মহিষগুলো সেই জরিমানা হিসেবে টাকা নেয়া হয়েছে; এ বিষয়ে গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে শালিশ বসেছে বলেও জানান মাইনুদ্দিন। সেখানে টাকাগুলো তার কাছেই জমা রাখা হয় এমনকি নিজের মহিষের জন্যও টাকা দিয়েছেন বলে দাবি তার।

মহিষ পালকদের দাবি, ‘জেলেদের সাথে আমদের কথা হয়েছে; তাদের মাছ ধরার কোন চাই ভাঙ্গেনি এমনকি কোন টাকাও দেওয়া হয়নি জেলেদের।’

চাঁদা তুলার ঘটনা কেন্দ্র করে বিষ দেওয়া হয়েছে কিনা এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাউফল উপজেলার ওসি শোনিত কুমার গায়েন দ্য ঢাকা ডায়েরিকে বলেন, “চাঁদা তুলার বিষয় কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে কিনা আমরা এখনো জানতে পানিনি। উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর স্যাম্পল সংগ্রহ করেছে বিস্তারিত তদন্ত সাপেক্ষে জানা যাবে।”

মহিষ প্রতি ২০০ টাকা চাঁদা নেওয়ার বিষয়ে তিনি জানান, এ বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে, তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Facebook
X
LinkedIn
Telegram
WhatsApp
Email