ঝালকাঠিতে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে প্রায় ৪ লাখ টাকার গাছ কেটে নেয়ার অভিযোগ

ঝালকাঠিতে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে প্রায় ৪ লাখ টাকার গাছ কেটে নেয়ার অভিযোগ |নয়া দিগন্ত

ঝালকাঠিতে ব্যবসায়ী তিন ভাইয়ের ৩ লাখ ৮৪ হাজার টাকার গাছ কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে পোনাবালিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো: ইউনুস মোল্লা ও তার শ্যালক মোহাম্মদ হাসানের বিরুদ্ধে।

ব্যবসায়ী ভাইদ্বয় মো: হাবিবুর রহমান ও মো: মাহবুবুর রহমান বুধবার (২ আগস্ট) সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন।

এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মো: হাবিবুর রহমান উল্লেখ করেন, তিনি ঝালকাঠি সদর উপজেলার পোনাবালিয়া ইউনিয়নের কিস্তাকাঠি গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবা মরহুম আব্দুল গণি হাওলাদার ২০১১ সালে মারা যান। তারা চার ভাই ও এক বোন। বাবার প্রায় ৩৫ শতাংশ জমির মধ্যে যাতায়াতের রাস্তা ও কবরস্থানের জন্য প্রায় ৫ শতাংশ জমি রয়েছে। পরিবারের সদস্যদের বসবাসের সুবিধার্থে তার বাবা বড় ছেলে আব্দুল লতিফকে প্রায় ৬ শতাংশ জমির ওপর ঘর তুলে বসবাসের অনুমতি দেন বলে দাবি করেন তারা।

হাবিবুর রহমানের ভাষ্য, ১৯৮৬ সালে এসএসসি পাস করার পর তিনি বাবার প্রায় ১৪ শতাংশ জমিতে নার্সারি করেন। ওই নার্সারি থেকে বাড়ি ও আশপাশের বিভিন্ন স্থানে গাছের চারা রোপণ করা হয়। তার বড় ভাই আব্দুল লতিফও ওই নার্সারি থেকে চারা নিয়ে নতুন বাড়িতে রোপণ করেন।

তারা আরো বলেন, ২০০৭ সালে বড় ভাই আব্দুল লতিফ অসুস্থ হয়ে পড়লে চার ভাইয়ের ক্রয়কৃত জমিতে থাকা গাছ বিক্রি করে তার চিকিৎসার খরচ বহন করা হয়। পরে ওই বছরই আব্দুল লতিফ মারা যান।

হাবিবুর রহমান অভিযোগ করেন, ২০২৩-২৪ সালে বড় ভাইয়ের ছেলে হাসান তার বসতভিটার প্রায় ৬ শতাংশ জমি থেকে গাছ বিক্রি করে সেখানে সেমিপাকা স্থাপনা নির্মাণ করেন। পরবর্তীতে হাসানের মা দুর্ঘটনায় শয্যাশায়ী হলে ২০২৫ সালের জুন মাসে চার ভাইয়ের ক্রয়কৃত জমি থেকে প্রায় ৬০-৭০ হাজার টাকার গাছ বিক্রি করা হয়। মানবিক কারণে তখন তারা কোনো আপত্তি করেননি বলেও জানান তিনি।

গত ২৫ জুলাই জানতে পারেন, হাসান এবং তার দুই বোন লিপি ও হেপি লোকজন নিয়ে তাদের অন্যান্য ভাইদের অংশের জমির গাছ কাটছেন। খবর পেয়ে তিনি ও তার দুই ভাই ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছ কাটতে বাধা দেন। কিন্তু তাদের বাধা উপেক্ষা করলে তারা গাছ কাটার অভিযোগ নিয়ে আদালতের আশ্রয় নেন। পরে আদালত ২৬ জুলাই ওই স্থানে মামলার (নম্বর- এমপি-৩৩০/২৬) কারণে ১৪৪ ও ১৪৫ ধারা জারি করেন বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।

হাবিবুর রহমানের অভিযোগ, আদালতের নিষেধাজ্ঞা জারির পরও হাসান ও তার বোনের জামাই পোনাবালিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো: ইউনুস মোল্লাসহ কয়েকজন ব্যক্তি ওই জমি থেকে প্রায় ৫০-৬০টি গাছ কেটে নিয়ে যান। একই সাথে আরো ১০-১২টি ফলজ গাছের চারা নষ্ট করা হয়, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৩ লাখ ৮৪ হাজার টাকা।

তারা আরো জানান, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উদ্যোগে বিষয়টি নিয়ে গত ৮ আগস্ট শনিবার সকাল ১০টায় উভয় পক্ষের কাগজপত্র ও সার্ভেয়ার নিয়ে সালিশে উপস্থিত থাকার সিদ্ধান্ত হয়। সে অনুযায়ী তিনি তার পক্ষের সালিশদার ও সার্ভেয়ার নিয়ে যথাসময়ে উপস্থিত হলেও অভিযুক্ত হাসান ও ইউনুস মোল্লা সেখানে উপস্থিত হননি।

সংবাদ সম্মেলনে হাবিবুর রহমান ইউনুস মোল্লার বিরুদ্ধে দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগও করেন।

তিনি ইউনুস মোল্লাকে সালিশ-মীমাংসার কথা বললে সে দম্ভোক্তি করে বলে, ‘ক্ষমতা আছে তাই গাছ কেটে নিয়েছি। আমরা সারাদেশে সালিশ করে বেড়াই, আমাদের সালিশি করবে কোন খাশির পোলায়?’

তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে ১৩ আগস্ট তার সেজো ভাই মাহবুবুর রহমান তাদের অনুমতিক্রমে ঝালকাঠি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গাছ কাটার অভিযোগে একটি মামলা (নম্বর সিআর-৪৭৪/২০২৬) দায়ের করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে হাবিবুর রহমান বলেন, জমি ও গাছ নিয়ে বিরোধের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তারা।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্ত হাসান, লিপি, হেপি ও মো: ইউনুস মোল্লার বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে বিএনপি নেতা ইউনুস মোল্লা বলেন, ‘আমরা সবাই আত্মীয়-স্বজন। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও কাল্পনিক।’

Facebook
X
LinkedIn
Telegram
WhatsApp
Email