দুর্নীতির দায় নিয়ে পদত্যাগকৃত অধ্যক্ষকে ফেরাতে এমপি’র ডিও

মাদরাসা সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৮ খ্রিষ্টাব্দের সহকারী মৌলভী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন ওসমান গণি। তিনি ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দের তৎকালীন আওয়ামীলীগের দলীয় প্রভাব খাটিয়ে অনেক অনিয়মকে নিয়মে পরিণত করে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ নেন।

#অধ্যক্ষ #দুর্নীতি #এমপি

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয় সম্পাদক ও ইসলামপুর গুনাইহাটি ফাযিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মো. ওসমান গণি দুর্নীতির দায় নিয়ে পদত্যাগ করেন। তাকে এখন স্বপদে পুর্নবহালসহ বেতন-ভাতা দেয়া ও স্ব-শরীরে উপস্থিত থেকে চাকরি করতে সহায়তা চেয়ে ডিও (আধা সরকারি পত্র) দিয়েছেন বিএনপির স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজ। গত মঙ্গলবার (৫ মে) প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) বরাবর ওই ডিও লেটার দেন তিনি।

মাদরাসা সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৮ খ্রিষ্টাব্দের সহকারী মৌলভী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন ওসমান গণি। তিনি ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দের তৎকালীন আওয়ামীলীগের দলীয় প্রভাব খাটিয়ে অনেক অনিয়মকে নিয়মে পরিণত করে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ নেন। আর এই পদে যোগদানের পর থেকেই তিনি স্বেচ্ছাচারি আচরণ ও দুর্নীতির আখড়া খুলে বসেন। শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ, পদোন্নতিসহ সব ক্ষেত্রে প্রভাব খাটিয়ে ঘুষ গ্রহণ ছিল তার নিত্য ব্যাপার।

জুলাই বিপ্লবের ফলে সরকারের পরিবর্তন হলে নানা সময়ে ক্ষতিগ্রস্থ ভুক্তভোগিরা তাদের দেওয়া প্রায় ২০ লাখ টাকা ফেরৎ দেওয়ার জন্য অধ্যক্ষ ওসমান গণির ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। তিনি এই টাকা ফেরৎ না দিয়ে গত ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ২ সেপ্টেম্বর তারিখে সেচ্ছায় পদত্যাগ করেন। পরে প্রতিষ্ঠানের ১৯ জন শিক্ষক ও ৭ জন কর্মচারী এই টাকা ফেরৎ এবং নানা সময়ে করা দুর্নীতির বিচার চেয়ে নাটোরের জেলা প্রশাসক বরাবর ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ১ অক্টোবর তারিখে আবেদন করেন। একই সময়ে আবেদনের অনুলিপি মাদরাসা অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরে পাঠাবেন। যার তদন্ত এবং বিচার কার্য এখানো চলমান।

এ বিষয়ে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড. তসলিম উদ্দীন বলেন, দুনীতিসহ নানা অভিযোগের প্রেক্ষিতে অধ্যক্ষ মো. ওসমান গণি সেচ্ছায় পদত্যাগ করেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। তারপরেও গভর্নিং বডি যদি তাকে পুর্নবহাল করেন। সেটা করতেই পারেন। আমার ব্যক্তিগত কোনো মতামত নেই।

পদত্যাগকরী অধ্যক্ষ মো. ওসমান গণি বলেন, এক সময় এলাকাবাসি ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। এখন তারাই চাচ্ছেন আমি ফিরে আসি। আবার মাদরাসা অধিদপ্তর এবং মন্ত্রণালয়ও তেমই আদেশ দিয়েছে। তাই আমি ফিরতে চাচ্ছি।

উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মতিউর রহমান সুমন বলেন, অধ্যক্ষ ওসমান গণি উপজেলা আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন।

বর্তমান সভাপতি নাটোরের এডিএম মো. আরিফ হোসেন বলেন, অধ্যক্ষ ওসমান গণি তার বিরুদ্ধে দায়েকৃত অভিযোগের স্বপক্ষে আইনি কোন কাগজপত্র উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। তাই এ বিষয়ে আমি কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। স্থানীয় এমপি’র ডিও লেটার বিষয়ে জানতে চাইলে, তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হন নেই।

জানতে চাইলে বিএনপি দলীয় স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্মআহ্বায়ক মো. আব্দুল আজিজ বলেন, অধ্যক্ষ ওসমান গণি মাদরাসা অধিদপ্তর থেকে তার পুর্নবহাল সংক্রান্ত কাগজপত্রসহ আবেদনের প্রেক্ষিতে আমি একটা ডিও লেটার দিয়েছি।

Facebook
X
LinkedIn
Telegram
WhatsApp
Email