নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাদের নিয়ে বিএনপির সহ-পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক বজলুল করিম চৌধুরী আবেদের একটি সভার ছবি ভাইরাল হয়েছে। এনিয়ে দলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

রবিবার (২০ জুলাই) রাত থেকে ওই সভার ভিডিও ও কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।

এর আগে শনিবার (১৯ জুলাই) দুপুরে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের সানকেন মিডোজ স্টেট পার্কে এই সভা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার রামপুর-মুছাপুর ইয়াংস্টার নামে ওই গেট টুগেদারের আয়োজন করে। এতে মুছাপুর ও রামপুর ইউনিয়নের প্রবাসীরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরর ঘনিষ্ঠ সহচর মুছাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান ও নিউইর্য়ক স্টেট আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী এবং রামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ইকবাল বাহার চৌধুরীকে একই সারিতে বসিয়ে বক্তব্য রাখেন বিএনপি নেতা বজলুল করিম চৌধুরী আবেদ।

আওয়ামী লীগের ওই দুই নেতা ৫ আগস্টের পর দেশ থেকে পালিয়ে যান। তাদের নামে নানা অপকর্মের একাধিক মামলা রয়েছে।

ওই বৈঠকের ছবি ও ভিডিও ভাইরালের পর নোয়াখালী জেলা বিএনপির রাজনীতিতে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া, আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকে আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে বিএনপি নেতা বজলুল করিম চৌধুরীর ওই ছবি জুড়ে ফেসবুকে নানা মন্তব্য করছেন।

তাফসির হোসেন নামে এক বিএনপি সমর্থক নিজের ফেসবুকে লিখেছেন, ‘প্রিয় আবেদ ভাই। নোয়াখালী-৫ আসনের নেতা-কর্মীরা আপনার থেকে এমন কিছু আশা করে নাই। আওয়ামী দোসরদের সাথে আপনার ছবি দেখে হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে।’

জিয়াউর রহমান নামে আরেকজন লিখেছেন, ‘নোয়াখালী-৫ আসনের এমপি প্রার্থী আবেদ সাহেব কি আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের দায়িত্বে নিয়েছেন নাকি। ভালো খুব ভালো, এগিয়ে যান।’

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ছয় মামলার পলাতক আসামি আইয়ুব আলী আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনাসহ দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের পরিবারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। এসব পরিচয়ে তিনি নানান অপকর্মে জড়িত ছিলেন। এছাড়া ওবায়দুল কাদেরের ছোটভাই পলাতক আবদুল কাদের মির্জার অবৈধ অর্থ পাচার, মুছাপুর ক্লোজার থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, ওই এলাকার ৬০০ একর খাস জমি দখল করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

আরেক আসামি ইকবাল বাহার চৌধুরীও অবৈধভাবে রামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হয়ে দলের সভাপতি পদ দখল করেন এবং এলাকার লোকজনের উপর অন্যায় অত্যাচার করেন। তার বিরুদ্ধে চারটি মামলা রয়েছে।

জানতে চাইলে বজলুল করিম চৌধুরী আবেদ বলেন, ‘গত ১২ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রে এসেছি। ছাত্রদলের ওই অনুষ্ঠানে যাই। সেখানে আর কারা থাকবে এ বিষয়ে তারা আমাকে কিছুই বলেনি। তবে পরে আমি জেনেছি ওরা দুজনই কাদের মির্জার ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং সন্ত্রাসী। আয়োজকরা আগে সতর্ক করলে এ ছবি উঠতো না। দু’একজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি পোস্ট করেছে বলে শুনেছি।’

নোয়াখালী জেলা বিএনপির সদস্যসচিব হারুনুর রশীদ আজাদ খবরের কাগজকে বলেন, ‘এমন ঘটনায় দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। বিষয়টি আমি বজলুল করিম চৌধুরী আবেদকে ফোন দিয়ে জিজ্ঞেস করব।  কারও জন্য দল বিতর্কিত হোক সেটা আমরা চাই না।’

Facebook
X
LinkedIn
Telegram
WhatsApp
Email