টঙ্গীতে যুবদলের সাইনবোর্ডে অন্যের অফিস দখল করে চলে মাদকের কারবার

গাজীপুরের টঙ্গীর কেরানিরটেক-নোয়াগাঁও-ব্যাংকের মাঠ এলাকায় রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ উঠেছে ৪৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সভাপতি আব্দুল খালেকের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অন্যের ব্যবসায়িক অফিস দখল করে সেখানে যুবদলের সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দলীয় কার্যালয়ের আড়ালে মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। নোয়াগাঁওয়ের ৯৯’ সৈয়দ আলী মুন্সি রোডের ‘যুবরাজ এন্টারপ্রাইজ’-এর অফিসের গেটে ‘টঙ্গী পূর্ব থানা যুবদল, ৪৬ নং ওয়ার্ড কার্যালয়’ লেখা সাইনবোর্ড টাঙানো হয়েছে। এতে আব্দুল খালেককে ৪৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অফিসটির মালিক ব্যবসায়ী আব্দুল আলিম খান টঙ্গী পূর্ব থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে বলেন, ২০২৫ সালের ২২ আগস্ট আব্দুল খালেক ১০-১২ জন লোক নিয়ে অফিসের তালা ভেঙে দখল করেন। প্রতিবাদ করলে তাকে গালাগাল ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। গত ৪ সেপ্টেম্বর অফিস ছেড়ে দিতে বললেও ফের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। আব্দুল খালেকের বিরুদ্ধে মাদক-সংক্রান্ত মামলার তথ্যও রয়েছে। ২০১৮ সালের ১৭ মে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে ৫০ হাজার ইয়াবাসহ তাকে ও শহিদুল ইসলামকে আটক করে র‌্যাব। র‌্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে টঙ্গী থানায় দুটি এবং উত্তরা পূর্ব থানায় একটি মাদক মামলা ছিল। এছাড়া চলতি বছরের জুলাইয়ে কেরানিরটেক এলাকায় অভিযান চালিয়ে খালেকের স্ত্রী মাকসুদা আক্তার টুনিকে ২৫০ গ্রাম গাঁজাসহ গ্রেফতার করে টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়। যুবদলের সাইনবোর্ড ব্যবহারের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। টঙ্গী পূর্ব থানা যুবদলের সভাপতি আকবর হোসেন ফারুক বলেন, আব্দুল খালেক ৪৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সভাপতি। বর্তমানে টঙ্গী পূর্ব থানায় কোনো ওয়ার্ড কমিটি নেই। তাই ওই অফিসে ওয়ার্ড যুবদল কার্যালয় হিসেবে সাইনবোর্ড ব্যবহারের অনুমোদন আছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কেরানিরটেক, নোয়াগাঁও রেলস্টেশন ও ব্যাংকের মাঠ এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে আসছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে এসব এলাকায় মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে। ব্যবসায়িক অফিস দখল করে সেখানে রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ের সাইনবোর্ড টাঙানোর বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা। অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল খালেকের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

Facebook
X
LinkedIn
Telegram
WhatsApp
Email