কুষ্টিয়ায় মামলার বাদী বয়োবৃদ্ধ নারীকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে সারাদিন থানায় রেখে বিকেলে নাশকতার মামলায় সন্দেহভাজন আসামি দেখিয়ে আদালতে মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানা পুলিশ।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার পাটিকাবাড়ি ইউনিয়নের নলকুলা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে নুর জাহান বেগমকে (৬৫) তুলে নিয়ে যায় পুলিশ।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় মারামারি ও ভাঙচুরের জেরে নুরজাহান বেগমের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর ও গোডাউনে আগুন দেওয়ার ঘটনায় সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন নুর জাহান বেগম। সেই মামলায় ৬২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১৫/২০ জনকে আসামি করা হয়।
রোববার সকালে ওসি কথা বলবে জানিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানা পুলিশ নুরজাহান বেগমকে নিয়ে যায়।
নুর জাহান বেগমের মেয়ে সেলিনা আক্তার শিল্পী জানান, সপ্তাহ দুয়েক আগে সামাজিক ও জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আমাদের বাড়িতে ও পাটের গোডাউনে অগ্নিসংযোগ এবং লুটপাট চালায় এলাকার একদল মানুষ। পরে কৃষকদলের স্থানীয় অফিসে নিজেরাই ভাঙচুর করে এলাকার আরও মানুষের বাড়ি-ঘরে হামলা ও লুটপাট চালানো হয়। এতে বিএনপির পাশাপাশি আওয়ামী লীগের কিছু লোকজন এ ঘটনায় জড়িত বলে দাবি শিল্পীর।
এই হামলা ও অগ্নি সংযোগের ঘটনায় তার মা নুরজাহান বেগম বাদী হয়ে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) কুষ্টিয়া আদালতে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িত এলাকার কিছু মানুষকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
শিল্পী আরও জানান, রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে একদল পুলিশ বাড়িতে ঢুকে পড়ে। তারা মাকে বলেন, ‘আপনি আদালতে গোডাউন পোড়ানোর মামলা করেছেন। মামলার বাদী আপনি। এ বিষয়ে ওসি সাহেব আপনার সাথে কথা বলবে। আমাদের সাথে চলুন। এই বলে কয়েকজন পুলিশ তাকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। এরপর থেকে মায়ের কোনো খোঁজ পাচ্ছিলাম না। এখন শুনছি পুলিশ মাকে আদালতে পাঠিয়েছে।’
নুরজাহান বেগমের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, পুলিশ বাড়ি থেকে নিয়ে আসার পর আমার মায়ের কোনো খবর পাচ্ছিলাম না। পরে থানায় গেলে আমাকে জানানো হয়, মাকে বিকেলে আদালতে পাঠানো হয়েছে। কি বিষয়ে আমার মাকে বাড়ি থেকে নিয়ে এসেছে এবং কেন আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হলো এই বিষয়ে আমরা কিছুই বুঝতে পারছি না।
আদালত-পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) কুষ্টিয়া সদর উপজেলার পাটিকাবাড়ি ইউনিয়নের নলকুলা গ্রামের ১ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত কৃষকদলের অফিস ভাঙচুর ও ভেতরে অবস্থানরত ব্যক্তিদের মারধরের অভিযোগে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে ৭৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১০০/১২০ জনকে আসামি করে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) মামলা দায়ের করা হয়। স্থানীয় কৃষকদল নেতা হাবিবুর রহমান এ মামলা করেন। তবে তার পদবী জানা যায়নি। সেই মামলায় রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) নুরজাহান বেগমকে সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার দেখিয়ে বিকেলে ইবি থানা পুলিশ আদালতে সোপর্দ করলে আদালত জেল হাজতে প্রেরণ করেন।
মামলার বিষয়ে জানতে কৃষকদলের পাটিকাবাড়ি ইউনিয়নের সভাপতি আবদুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে কেউ বক্তব্য দিতে রাজি হননি। এছাড়া মামলার বাদী হাবিবুর রহমানের বাসায় গিয়েও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নুরজাহান বেগমের বিষয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ওসি এস.এম মামুনুর রশিদকে মোবাইলে কল দেওয়া হলে তিনি বলেন, আমি ব্যস্ত আছি। সাংবাদিক ভাইদের ইন্টারভিউ দিচ্ছি। পরে কথা বলব বলে ফোন কেটে দেন।
