পারিশ্রমিকের টাকা চাওয়ায় সাবেক যুবদল নেতাকে মারধরের অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

বিএনপির লোগো ও মারধরে আহত সাবেক যুবদল নেতা শাহীন © সংগৃহীত ও সম্পাদিত

নোয়াখালীর কবিরহাটে পাওনা পারিশ্রমিকের টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে মো. শাহীন (৪৪) নামে এক সাবেক যুবদল নেতাকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা শামসুদ্দিন মাসুদের বিরুদ্ধে। তিনি চাপরাশিরহাট ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে উপজেলার চাপরাশিরহাট বাজারের বাশার হোটেলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। হামলার শিকার শাহীন একই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং অমরপুর গ্রামের মৃত সাহাব উদ্দিন মেম্বারের ছেলে।

ভুক্তভোগী শাহীন অভিযোগ করে বলেন, কয়েক মাস আগে বিএনপি নেতা শামসুদ্দিন মাসুদ চাপরাশিরহাট হাইস্কুলের পশ্চিম পাশে একটি জায়গা ক্রয় করেন। পরে দলীয় লোকজন নিয়ে ওই জায়গা মাপ দিয়ে দখলে নেন। ওই সময় তিনি সেখানে কাজ করেন। এরপর তিনি ঢাকায় চলে যান। ফিরে এসে কাজের পারিশ্রমিক চাইলে মাসুদ একাধিকবার টাকা দেওয়ার আশ্বাস দেন। কিন্তু টাকা না পাওয়ায় তিনি মাসুদের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেন।

শাহীন অভিযোগ করে আরও বলেন, একাধিকবার ফোন দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে মঙ্গলবার রাতে চাপরাশিরহাট বাজারের বাশার হোটেলের সামনে মাসুদ তার লোকজন নিয়ে তার ওপর হামলা চালান। একপর্যায়ে বেধড়ক পিটিয়ে তাকে গুরুতর আহত করা হয়। তিনি বলেন, “আমরা গরিব মানুষ। তার বিরুদ্ধে আইনগত কী ব্যবস্থা নেব, তাও বুঝতে পারছি না।”

তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চাপরাশিরহাট ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামসুদ্দিন মাসুদ। তিনি বলেন, “শাহীন তাকে আঁচড় দিয়ে মেরে ফেলার হুমকি দেন। এতে বাজারে থাকা লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে শাহীনকে মারধর করেন। এ ঘটনার সঙ্গে আমি জড়িত নই।”

মাসুদ আরও বলেন, “জায়গা মাপার সময় শাহীন আমিনের সঙ্গে গিয়ে ফিতা ধরেছিলেন। আমিন তাকে মজুরি দিয়েছেন। পরে তিনিও শাহীনকে কিছু টাকা দেন। তবে শাহীন তার কাছে ২০ হাজার টাকা দাবি করছেন।”

চাপরাশিরহাট ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি জহির উদ্দিন বলেন, পাওনা টাকা পাওয়ার বিষয়টি তাকে জানিয়েছিলেন শাহীন। তিনি বলেন, “হয়তো তিনি (মাসুদ) ভুলে গেছেন। তুমি টাকা চাইলে দিয়ে দেবেন।” পরে তিনি শাহীনের ওপর হামলার ঘটনা শুনেছেন বলেও জানান।

বিষয়টি নিয়ে কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোমেল বড়ুয়া বলেন, “এ ঘটনায় ভুক্তভোগী লিখিত কোনো অভিযোগ দেননি। তবে তারা রাজনৈতিকভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করছেন।”

Facebook
X
LinkedIn
Telegram
WhatsApp
Email