সেন্টমার্টিন-শাহপরীর দ্বীপের নৌপথে স্পিডবোটে যাতায়াতের ক্ষেত্রে নতুন করে ভাড়া বৃদ্ধিতে যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়েছে। সিন্ডিকেট করে কম দূরত্বে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ যাত্রীদের।
জানা গেছে, সেন্টমার্টিন ও শাহপরীর দ্বীপ নৌপথে স্পিডবোটে যাতায়াতের ভাড়া কয়েক দফায় বাড়ানো হয়েছে। আগে জনপ্রতি ভাড়া ছিল ৪০০ টাকা। পরে তা বাড়িয়ে ৫০০ টাকা করা হয়। সম্প্রতি জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর নতুন করে ভাড়া বাড়িয়ে ৬০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বারবার ভাড়া বৃদ্ধির কারণে যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ছে।
কয়েকজন যাত্রীর অভিযোগ, সেন্টমার্টিন থেকে শাহপরীর দ্বীপে যাতায়াতের ক্ষেত্রে কোনো কোনো স্পিডবোটে জনপ্রতি ৭০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।
জানা গেছে, সেন্টমার্টিনে বর্তমানে দুটি স্পিডবোট সমবায় সমিতি রয়েছে। এর মধ্যে একটি সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আলম, যিনি সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক। অন্য সমিতির সভাপতি মৌলভী আবদুর রহমান, যিনি সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি। দুটি সংগঠনের স্পিডবোট এই নৌপথে যাত্রী নিয়ে চলাচল করছে।
সেন্টমার্টিনের বাসিন্দা নুর মোহাম্মদ জানান, কাজের প্রয়োজনে তাকে প্রায়ই টেকনাফে যেতে হয়। দ্রুত যাতায়াতের জন্য স্পিডবোটই তার একমাত্র ভরসা। ট্রলারে যাতায়াত করলে সময় বেশি লাগে।
তিনি বলেন, দেশে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সেন্টমার্টিন-শাহপরীর দ্বীপ নৌপথে স্পিডবোটের ভাড়াও বেড়েছে। অথচ সেন্টমার্টিন থেকে শাহপরীর দ্বীপের দূরত্ব আনুমানিক ১৪ কিলোমিটার। এই স্বল্প দূরত্বে যাতায়াতের জন্য অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি। দ্রুত যাতায়াতের প্রয়োজনে স্পিডবোটে উঠতে হয় বলে কি একবারে ১০০ টাকা ভাড়া বাড়াতে হবে?
সম্প্রতি সেন্টমার্টিন-শাহপরীর দ্বীপ নৌপথে স্পিডবোটে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার বিষয়ে সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি আজিজুল হক তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘অশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নূরুল আলম আরমান ও সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুর রহমানকে। সেন্টমার্টিন টু শাহপরীর দ্বীপ স্পিডবোটের ভাড়া প্রথমে ৪০০ টাকা থেকে ৫০০, এরপর ৬০০ এবং সর্বশেষ ৭০০ টাকা করার জন্য। আবারো ধন্যবাদ জানাচ্ছি ৭০০ টাকা দিয়ে টেকনাফ পৌঁছায় দেবে বলে শাহপরীর দ্বীপে নামায় দেওয়ার জন্য। আপনাদের নেতৃত্বে সিন্ডিকেট এভাবে এগিয়ে যাক দোয়া করি।’
এ বিষয়ে সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নুরুল আলম আরমান জানান, সেন্টমার্টিন থেকে শাহপরীর দ্বীপ ও টেকনাফ জেটিঘাট পর্যন্ত স্পিডবোট চলাচল করে। সেন্টমার্টিন থেকে শাহপরীর দ্বীপ পর্যন্ত জনপ্রতি ভাড়া ৬০০ টাকা এবং টেকনাফ পর্যন্ত ৭০০ টাকা নেওয়া হতো। তবে রোববার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত স্পিডবোট চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এখন সেন্টমার্টিনগামী যাত্রীদের শাহপরীর দ্বীপ জেটিঘাট থেকে স্পিডবোটে উঠতে হবে। তবে এখন এখানে সমিতি দুটি। আগে ছিল একটি।
তিনি আরও জানান, দুই দফায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে সেন্টমার্টিন থেকে শাহপরীর দ্বীপ জেটিঘাট পর্যন্ত স্পিডবোটের ভাড়া জনপ্রতি ১০০ টাকা বাড়িয়ে বর্তমানে ৬০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া আজিজুল হক নামে এক যুবক ফেসবুকে স্পিডবোটের ভাড়া নিয়ে যে অভিযোগ করেছেন, তা সত্য নয় বলে দাবি করেন নুরুল আলম আরমান।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস.এম. অনীক চৌধুরীর সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগের জন্য একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক ( ডিসি) মো. আব্দুল মান্নানের কাছ থেকে জানতে চাইলে তিনি জানান, এরকম কোনো তথ্য তারা পাননি। তবে বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন দেখে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের জন্যও বলেন তিনি।
