আদালতের নির্দেশে বিএনপি নেতার দখলে থাকা দোকান সিলগালা

শরীয়তপুরের জাজিরায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দখল, চাঁদাবাজি ও লুটপাটের অভিযোগে দায়ের করা মামলার বিরোধপূর্ণ দোকানটি সিলগালা করেছে উপজেলা প্রশাসন। আদালতের নির্দেশে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার ডুবিসায়বর বন্দর কাজীরহাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে দোকানটি সিলগালা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান।
অভিযোগে নাম এসেছে উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি সুরুজ মাদবর ও তার ছেলে স্বাধীন মাদবরের। ব্যবসায়ী সোবহান মাদবরের দাবি, তার দোকানে হামলা, মালামাল লুট ও দোকান দখলের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এর আগে সুরুজ মাদবর ও তার ছেলেকে কারাগারেও যেতে হয়েছিল। তবে দোকানের জমি নিজেদের কেনা সম্পত্তি বলে দাবি করেছিলেন সুরুজ মাদবর। মালামাল লুটের অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেছিলেন।
মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জাজিরা উপজেলার মানিকনগর এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী সোবহান মাদবর কাজীরহাট এলাকায় জমি কিনে প্রায় আট বছর ধরে সেখানে দোকানঘর নির্মাণ করে কাঠের আসবাব ও টিনের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২ ডিসেম্বর রাতে উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি সুরুজ মাদবর ও তার ছেলে স্বাধীন মাদবর লোকজন নিয়ে ওই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা চালান। এ সময় দোকানের মালামাল লুট করে দোকানঘরটি দখলে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন সোবহান মাদবর।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, এ ঘটনার আগে তার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, লুটপাট ও দখলের ঘটনা ঘটে। এতে দোকানের মালামাল ও নগদ অর্থসহ প্রায় ৪০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
ঘটনার পর ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর সোবহান মাদবর শরীয়তপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে মামলা করেন। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি সুরুজ মাদবর ও তার ছেলে স্বাধীন মাদবরের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। পরে তারা হাইকোর্ট থেকে আট সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পান বলে মামলাসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
জামিনের মেয়াদ শেষ হলে গত ২৩ জুন তারা শরীয়তপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক আয়েশা আক্তার তাঁদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরদিন ২৪ জুন বাদীপক্ষের আইনজীবী দিপু মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পরে কারামুক্ত হয়ে সুরুজ মাদবর পুনরায় ওই দোকান খুলে ব্যবসা পরিচালনা শুরু করেন বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হলে আদালতের নির্দেশে দোকানটি সিলগালা করতে পদক্ষেপ নেয় উপজেলা প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান ঘটনাস্থলে গিয়ে আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন করেন। এ সময় দোকানটি বন্ধ করে সিলগালা করা হয়। অভিযান দেখতে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও উৎসুক জনতা সেখানে ভিড় করেন। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সদস্যরা তাঁদের ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেন।
অভিযান শেষে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহেদী হাসান সাংবাদিকদের বলেন, “কার দোকান বা কিসের দোকান—এটা আমার দেখার বিষয় নয়। মহামান্য আদালত আদেশ দিয়েছেন, আমি কেবল আদালতের সেই আদেশ বাস্তবায়ন করতে এসেছি। আদালতের আইন অমান্য করে কেউ যদি পুনরায় এই দোকান খোলার বা তালা ভাঙার চেষ্টা করে, তবে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
আদালতের নির্দেশে দোকানটি সিলগালা করার মধ্য দিয়ে বিরোধপূর্ণ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম আপাতত বন্ধ রয়েছে। এ ঘটনায় আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের দখল নিয়ে বিরোধের বিষয়টি স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
Facebook
X
LinkedIn
Telegram
WhatsApp
Email