ঢাকা কলেজে ছাত্রদল নেতার আশ্রয়ে হলে থাকে ছাত্রলীগ কর্মী

ঢাকা কলেজের নর্থ হলে বৈধ সিট না থাকলেও হল শাখা ছাত্রদলের সেক্রেটারী খায়রুলের আশ্রয়ে অবৈধভাবে হলে থাকত জুলাই আন্দোলনে প্রকাশ্যে হামলাকারী নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগের দুই কর্মী।

মঙ্গলবার (৩০ অক্টোবর) রাতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে যে, নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী ছাত্রলীগের কর্মী বাংলা বিভাগের ২০২১-২২ সেশনের শিক্ষার্থী হোসাইন জাহিদ ও হাবিবুলাহ ঢাকা নর্থ হল শাখার সেক্রেটারী খায়রুলের আশ্রয়ে তার ১০৮ নাম্বার রুমে রয়েছে । হলের শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ শিক্ষার্থীরা সন্ত্রাসী ছাত্রলীগ কর্মীদের ও তার আশ্রয় দাতাকে আইনের আওতায় আনার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করে।

এটিএন নিউজের একটি ফুটেজে দেখা যায়, গত ১৭ জুলাই স্বৈরাচার সরকারের বিরুদ্ধে ছাত্র জনতার অবরোধ কর্মসূচিতে আন্দোলনকারীদের ওপর লাঠি দিয়ে হামলা করছে ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের দুই কর্মী হোসাইন জাহিদ ও হাবিবউল্লাহ।

আশ্রয় দানকারী ছাত্রদল নেতা খায়রুল সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, “আমি অভিযুক্ত জাহিদকে ৫ আগস্টের আগে চিনতাম না। ছাত্রলীগের সাথে জড়িত কি না এটাও আমি জানতাম না, জানলে ব্যবস্থা নিতাম। এখন যেহেতু ভিন্ন পরিস্থিতিতে চলে গেছে তাই আমার আর সমাধানের সুযোগ নেই। গেস্ট হিসেবে কয়েকদিন থাকতেছে, বৈধ সিট তার না। তার বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ কিন্তু সে আগে আবাসিক ছাত্র ছিল না বিধায় আমি তাকে থাকতে দিয়েছি। এখন যেহেতু অভিযোগ আসছে এই জন্য আমি তাকে চলে যেতে বলেছি, সে চলে গেছে।”

তিনি আরও বলেন, “দীর্ঘ লড়াই সংগ্রাম করে আমি এই হলের সেক্রেটারী হয়েছি, আমাকে বাতাসে বানিয়ে দেয় নাই। বাংলাদেশে ছাত্রলীগ দ্বারা সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত হয়েছে ছাত্রদল। ছাত্রলীগের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। ব্যক্তির অপরাধ আমি বা আমার দল নিবে না। ছাত্রলীগের বিষয়ে আমাদের অবস্থান জিরো।অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আমার আহ্বান থাকবে এ্যাকশন নেওয়ার।”

নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মী হোসাইন জাহিদ ও হাবিবুল্লাহর সাথে সময়ের কণ্ঠস্বরের পক্ষ থেকে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তারা কল রিসিভ করলেও কোন কথা বলেন নাই। এই জন্য তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয় নাই

ঢাকা কলেজ সমন্বয়ক মোহাম্মদ রাকিব ও জিহাদ হোসাইনের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভ মিছিল থেকে আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে জাহিদ হোসেনকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়।

এই বিষয়ে সমন্বয়ক জিহাদ হোসাইন সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, বাংলাদেশে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ আমাদের ছাত্রদেরকে হত্যা করে শহীদ করেছে, শ্রমিকদেরকে হত্যা করে শহীদ করেছে,এমন কি শিশুদের রক্তে রঞ্জিত করেছে তাদের হাত। ছাত্রলীগের মত নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন যারা জুলাই আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের উপর প্রকাশ্যে হামলা চালিয়ে কিভাবে প্রসাশনের নাকের ডগার সামনে দিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ এবং অবস্থান করে। এর দায় প্রশাসনকে নিতে হবে ।প্রশাসনকে এর জবাবদিহিতা করতে হবে ছাত্রদের কাছে। আমরা প্রশাসনকে আলটিমেটাম দিচ্ছি সর্বোচ্চ আগামী একদিনের মধ্যে এদেরকে গ্রেপ্তার করে বিচারের সম্মুখীন করতে হবে। আর,এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত নিষিদ্ধ সংগঠন সন্ত্রাসীদেরকে যারা প্রশয় দিচ্ছে তাদেরকেও চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

এ বিষয়ে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি শাহীনুর রহমান শাহীন বলেন, “আমি এই বিষয়ে জানতাম না, আপনার কাছে থেকে শুনলাম। যদি এমন ঘটনা ঘটে, তাহলে আমরা স্যারদের সাথে কথা বলে এবং তদন্ত করে সত্যতা পেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেব।”

ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক একেএম ইলিয়াস বলেন, “আমি সহকারী হল প্রোভোস্টকে ডেকেছি, বিস্তারিত জেনে পদক্ষেপ গ্রহণ করব।”

Facebook
X
LinkedIn
Telegram
WhatsApp
Email