শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে জমি দখল, চাঁদাবজি, পুলিশের কাছ থেকে আসামি ছিনতাইসহ নানা অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমনকি থানা পুলিশের এক এসআইকে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে দিয়েছেন বলেও অভিযোগ।
অভিযুক্ত রনি মাঝি উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলার বাহির কুশিয়া এলাকার মৃত হায়দার আলী মাঝির ছেলে।
উপজেলার ঘড়িসার মডার্ন সিটির মালিক নাজির হোসেনের অভিযোগ, ঘড়িসার এলাকার সাড়ে ৮ একর জমি কিনে ১২০টি প্লট তৈরি করেন। সেখানে ৪০টির মতো প্লট বিক্রিও করেন। ৫ আগস্টের পর রনি মাঝি তাদের অফিসটি দখল করে নেয়। যারা প্লট কিনেছেন, তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায় করছে। গত ৫ জানুয়ারি সেখানকার পাঁচশতাধিক গাছে আগুন দেওয়া হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ১৯ নভেম্বর পণ্ডিতসার বাজারের ব্যবসায়ী অরন আহাম্মেদ হাওলাদারকে ধরে নিয়ে রড দিয়ে পিটিয়ে মারাত্মক আহত করে। পরে ঘড়িসার মডার্ন সিটির অফিসে নিয়ে তাকে বৈদ্যুতিক শক দেয়। পরে স্ত্রী শান্তা আক্তারের কাছে ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। পরিবারের লোকজন ৫০ হাজার টাকা দিয়ে তাকে সজ্ঞাহীন অবস্থায় উদ্ধার করে। গত ২২ নভেম্বর আবার তাকে ধরে নিয়ে মারপিট করে। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ গেলে পালিয়ে যায়। উপজেলার পাগলার মোড় এলাকার ইতালি প্রবাসী আলাউদ্দিন লাকুড়িয়ার জমি দখল করে দোকানঘর নির্মাণ করেছে রনি। এ ঘটনায় আদালতে মামলা করলেও তার চাপে প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়। শুধু তা-ই নয়, রনির হাত থেকে দলের নেতাকর্মীরা কেউ রেহাই পাচ্ছেন না।
সম্প্রতি উপজেলার চণ্ডীপুর স্কুলে রনি মাঝির চাচাতো ভাই রবিন মাঝি মাদক বিক্রি ও সেবনের সময় পুলিশের হাতে আটক হয়। খবর পেয়ে রনি মাঝি পুলিশের ওপর হামলা করে তাকে ছাড়িয়ে নেয়। হামলায় এসআই ফরহাদ হোসেনের হাত-পা ভেঙে যায় বলে জানায় পুলিশ। এ ঘটনায় এসআই ইকবাল হোসেন মামলা করেছেন।
বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা সভাপতি সফিকুর রহমান কিরণ বলেন, রনি মাঝির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ শুনেছি। কোনো সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, দখলদারের বিএনপিতে স্থান নেই।
অভিযোগ অস্বীকার করে রনি মাঝি বলেন, আলাউদ্দিন লাকুড়িয়ার জমি দখল করিনি। সে যে প্রকল্প করেছে, সেখানে আমাদের জমি আছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তারা আমাদের জায়গা দখল করেছে। অরন হাওলাদার ইয়াবা ব্যবসায়ী, তাকেসহ ১৭ জনকে ধরে বিচার করেছি।
জানতে চাইলে পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম বলেন, আমাদের গোয়েন্দা সূত্রে রনি মাঝির অপকর্মের বিষয়ে শুনেছি। সে পুলিশের ওপরও হামলা করেছে। পাশাপাশি অরন আহম্মেদ নামে একজনকে মারধরের কথা শুনেছি। এসব ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
