দোকান লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে বিএনপির ৬ নেতা জেলহাজতে

বরগুনায় ব্যবসায়ীর দোকান লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে বিএনপির ছয় নেতাকর্মীকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রবিবার (১৯ অক্টোবর) বরগুনার দ্রুত বিচার আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এস এম শরিয়ত উল্লাহ এই আদেশ দেন।

জেলহাজতে পাঠানো আসামিরা হলেন বরগুনা সদর উপজেলার এম বালিয়াতলী ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. হায়াত মাহমুদ মিল্টন, এম বালিয়াতলী ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সোলায়মান কবির ইউনুচ, ইউনিয়ন যুবদলের নেতা মো. শফিকুল ইসলাম ওরফে জামাল মল্লিক, জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও এম বালিয়াতলী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য এমদাদুল হক মিলন, এম বালিয়াতলী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির সদস্যসচিব মো. আকতারুল হক ও মো. শাহজাহান মুন্সী।

আদালত একই মামলায় আরেক আসামি সাইফুল প্রিন্সকে জামিন দিয়েছেন।

আসামিরা সবাই ইউনিয়ন বিএনপি ও যুবদলের স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মী। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) মো. ইসরাত হোসাইন সুমন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, বাদী মোসা. মুন্নী গত বছরের ২৫ আগস্ট এম বালিয়াতলী ইউনিয়নের ৯ জনসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, তার স্বামী মো. মনিরুজ্জামান দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে মাইঠা ব্রিজ স্ট্যান্ডে সার, কীটনাশক, বীজ, মোবাইল রিচার্জ ও বিকাশ ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন।

গত ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর রাত ৯টার দিকে আসামিরা দোকানে হামলা চালিয়ে লুটপাট করে এবং পরে দোকানে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে প্রায় ৪২ লাখ ৬৬ হাজার ৮০০ টাকার ক্ষতি হয়। এ ঘটনায় আদালত মামলাটি গ্রহণ করে বরগুনা থানাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এজাহারভুক্ত করার নির্দেশ দেন। তদন্ত শেষে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর তদন্তকারী কর্মকর্তা এইচ এম মেহেদী আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
বাদী মুন্নী বলেন, আমি মামলা করার পর এক বছর দুই মাস পর গত ১৬ অক্টোবর দ্রুত বিচার আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট না থাকায় দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্য একটি আদালতে হাজির হয়ে জামিনে যায়। আজ রবিবার সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে প্রিন্স নামের একজনকে জামিন দিয়ে বাকি ৬ জনের জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আসামি কামরুল ইসলাম মিরাজ মামলা হওয়ার পর পালিয়ে বিদেশে গেছেন।

আসামি পক্ষের আইনজীবী আবদুল ওয়াসি মতিন বলেন, আমার আসামি জামিনে ছিল। জামিনে থেকে কোনো শর্ত ভঙ্গ করেনি।

তা ছাড়া ৫ আগস্টের জুলাইযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে যেসব মামলা হয়েছে, সেসব মামলা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রত্যাহারের জন্য প্রক্রিয়াধীন। আমরা উচ্চ আদালতে জামিনের আবেদন করব।
রাষ্ট্রপক্ষের অ্যাসিস্ট্যান্ট পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) মো. ইসরাত হোসাইন সুমন বলেন, পুলিশ তদন্ত করে সত্য মর্মে চার্জশিট দিয়েছেন।

Facebook
X
LinkedIn
Telegram
WhatsApp
Email