এলজিইডি কর্মকর্তাদের ওপর হামলার অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

অভিযুক্ত বিএনপি নেতা

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলাকালে চাঁদার দাবিতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার (৯ মার্চ) বিকেল ৩টার দিকে সদর উপজেলার শারালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে আইআরআইডি পি-৩ প্রকল্পের আওতায় রাস্তার কার্পেটিংয়ের কাজ চলার সময় এ হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় বিএনপি নেতা মো. আলমের নেতৃত্বে ২০-২৫ জনের একটি দল চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দেওয়ায় তারা প্রকৌশলী ও কর্মচারীদের ওপর লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়।
মো. আলম ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের বিএনপির সভাপতি।

হামলায় আহতরা হলেন এলজিইডির প্রকৌশলী মো. রেজওয়ানুল হক, সহকারী প্রকৌশলী মো. ফরহাদ হোসেন সৌরভ, উপসহকারী প্রকৌশলী মো. রাজিবুল ইসলাম, নাজমুস সাকিব আকাশ ও ল্যাব সহকারী মো. আমিনুল ইসলাম। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এলজিইডির প্রকৌশলী মো. রেজওয়ানুল হক বলেন, ‘চাঁদা না দেওয়ায় আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।
তারা গালাগাল করে, মারধর করে এবং জীবননাশের হুমকি দেয়। আমরা এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।’

এ বিষয়ে সাহা জব্বার কনস্ট্রাকশনের প্রোপাইটার মো. আব্দুল্লাহ টিটু বলেন, ‘স্থানীয় বিএনপি নেতা আমার কাছে চাঁদা চেয়েছিলেন। আমি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রকৌশলীদের ওপর হামলা চালানো হয়।

অভিযুক্ত বিএনপি নেতা মো. আলম দাবি করেছেন, ‘রাস্তার কাজ নিম্নমানের হওয়ায় এলাকাবাসী কাজ বন্ধের দাবি জানায়। চাঁদা চাওয়ার অভিযোগ সত্য নয়।’

ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ঠাকুরগাঁও জেলা পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘মামলা গ্রহণ করা হয়েছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে দোষীদের গ্রেপ্তারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এলজিইডির জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন বিশ্বাস বলেন, ‘এভাবে হামলা হলে উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ বাধাগ্রস্ত হবে। আমরা দ্রুত দোষীদের শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’

Facebook
X
LinkedIn
Telegram
WhatsApp
Email