ঢাকার তুরাগ থানার বাদালদি এলাকায় এক পানি ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের এক নেতার বিরুদ্ধে। এতে ভয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন ওই ব্যবসায়ী ও তাঁর পরিবার।
জানা যায়, তুরাগের বাদালদি এলাকার পানি ব্যবসায়ী হান্নান মিয়ার কাছ থেকে ২ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেন ঢাকা মহানগর উত্তর জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের যুগ্ম আহ্বায়ক এম এম আশরাফুল আলম। এই ঘটনার একটি কল রেকর্ড এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ছড়িয়ে পড়া কল রেকর্ড হতে জানা যায়, চাঁদা না দিলে হান্নান মিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলায় নাম ঢুকিয়ে ফাঁসিয়ে দেওয়া, পুলিশি হয়রানি করা, এলাকার লোকজন দিয়ে হয়রানি করা হবে বলে ভয় দেখানো হয়। আর ২ লক্ষ টাকা দিলে কোনো মামলায় নাম দেওয়া হবে না, বরং থানা পুলিশ, এলাকার লোকজন সব ম্যানেজ করে আপোষ মীমাংসার করে দিবে আশরাফুল।
ভুক্তভোগী হান্নান মিয়ার স্ত্রী বলেন, ‘প্রতিদিনই আমাদের বাসার সামনে ওরা লোক পাঠায়, টাকার জন্য চাপ দেয়। আমাদের ছোট ছেলে-মেয়ে পর্যন্ত ভয়ে কাঁদে। রাতেও ঘুমাতে পারি না, যদি কেউ কিছু করে ফেলে!’
স্থানীয়রা বলছে, অভিযুক্তরা নিজেদের জাতীয়তাবাদী ওলামা দল নামক রাজনৈতিক সংগঠনের পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই নানা রকম ভয়ভীতি ও দখলদারিত্বে লিপ্ত আছে।
স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘আজ হান্নান ভাইয়ের কাছে টাকা চাইছে, কাল হয়তো আমাদের কাছেও আসবে। প্রশাসন এখনই ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে।’
চাঁদা দাবি ও হুমকির ঘটনায় আতঙ্কে থাকা ব্যবসায়ী হান্নান মিয়া প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমি শুধু চাই, আমার পরিবারকে নিয়ে শান্তিতে থাকতে। কারও সঙ্গে শত্রুতা করিনি। বরং মানুষের উপকারই করেছি যতটুকু পেরেছি। অথচ এখন আমাকে ও আমার পরিবারকে হুমকি-ধামকি দিয়ে জীবন দুর্বিষহ করে তোলা হচ্ছে।’
হান্নান মিয়ার দাবি, তিনি কোনো উত্তেজনা ছড়াতে চান না, কেবল নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন।
এ ঘটনায় মুঠোফোনে কথা হলে অভিযুক্ত আশরাফুল আলম বলেন, ‘আমি নিজের জন্য টাকা চাই নাই, আমি আপোষে মীমাংসা করার জন্য টাকা চাইছি। এলাকার লোকজন এবং থানা পুলিশ ভুক্তভোগীর সাথে আওয়ামী লীগের লোকজনের একসাথে থাকা একটি ছবি নিয়ে অনেক ঝামেলা করতেছে। আমি উনাদের সাথে মীমাংসা করিয়ে দেওয়ার জন্য এই টাকা চাইছি। আমি আমার নিজের জন্য চাই নাই।’
এ বিষয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক কাজী মোঃ সেলিম রেজা বলেন, ‘অন্যায় করলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। যেই অপরাধ করুক, অপরাধ প্রমাণিত হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
