সরকারি রাস্তার কাজে স্বেচ্ছাসেবকদল নেতার চাঁদা দাবির অভিযোগ

বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় মহিষাবান ইউনিয়নের কর্ণিপাড়া গ্রামে রাস্তার নির্মাণকাজকে কেন্দ্র করে স্বেচ্ছাসেবকদল নেতাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, হুমকি-ধামকি ও মারধরের চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার এঘটনায় এবিষয়ে ইউপি সদস্য আঙ্গুর বানু বাদী হয়ে গাবতলী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে অভিযুক্তরা বিষয়টি সত্য নয় বরং নিম্নমানের কাজ হচ্ছিলো বলে দাবি করেছেন। রবিবার বিকালে গাবতলী থানার এসআই রিপন অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বাদী আঙ্গুর বানু মহিষাবান ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত ইউপি সদস্য ও কর্ণিপাড়া গ্রামের সহিদুল ইসলাম লিটনের স্ত্রী। অভিযুক্তরা হলেন, গাবতলী উপজেলা মহিষাবান ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব ও কর্ণিপাড়া গ্রামের উজ্জ্বল হোসেন (৩২), একই এলাকার এলাকার সিদ্দিক (৩০) ও দিলু (৩৫)।

গাবতলী থানায় অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি ইউনিয়ন পরিষদের সরকারি প্রকল্পের ২ লাখ টাকা বাজেটে ৭৬ মিটার ইটের সোলিং কাজ পান আঙ্গুর বানু। সেই কাজ স্বামী সহিদুলকে দিয়ে স্থানীয় রায়হানের বাড়ির পাশ থেকে কাজ শুরু করেন। সেই কাজে কয়েকদিন আগে তারা ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন অভিযুক্তরা। গত ৭ নভেম্বর বিকালে চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় রাস্তার কাজে বাধা দেয়। পাশাপাশি তার স্বামীকে হুমকি দেয়, মারধরের চেষ্টা করে এবং ভয়ভীতি দেখায়।

এসময় আঙ্গুর বানু ও তার কন্যা সহিদুলইকে রক্ষা করতে গেলে তাদের প্রতিও মারমুখি আচরণ করেন অভিযুক্তরা। তাদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

থানায় অভিযোগ দেওয়া ইউপি সদস্য আঙ্গুর বানু বলেন, রাস্তার কাজে ব্যবহৃত ইটকে নকল ইট দাবি করে তারা আমার স্বামীর কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। টাকা না দেওয়ায় আমার স্বামীকে মারধর পর্যন্ত করে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।

এবিষয়ে মহিষাবান ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মো. উজ্জ্বল বলেন, রাস্তার কাজে অনিয়মের প্রতিবাদ করায় আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজির অভিযোগ করা হয়েছে। আমি পদধারী নেতা হওয়ায় আমার ও আমার সংগঠনের নাম খারাপ করার চেষ্টা চলছে।

আরেক সিদ্দিক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি প্রায় ৪ বছর ধরে শহরে থাকি। ফোন পেয়ে গ্রামের দিকে গিয়েছিলাম মাত্র। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

এবিষয়ে গাবতলী থানার এসআই রিপন জানান, এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ হয়েছে। অভিযোগের তদন্তকারী এএসআই এরশাদ সাক্ষী দিতে বগুড়া বাহিরে আছেন। তিনি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

Facebook
X
LinkedIn
Telegram
WhatsApp
Email