কুয়াকাটা পৌর বিএনপির দপ্তর সম্পাদকের বিরুদ্ধে দলটির নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জমিতে সাইনবোর্ড-পিলার বসিয়ে জমি দখল ও বাণিজ্যের অভিযোগ করা হয়েছে।
গতকাল বুধবার সকাল ১০টার দিকে কুয়াকাটা প্রেস ক্লাবের হলরুমে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল আজিজ মুসুল্লি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, কুয়াকাটা পৌর আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় কর্মী ও ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আব্দুর রশিদ মোল্লা গত ১৫ বছর আওয়ামী লীগের প্রভাব দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জমিতে সাইনবোর্ড-পিলার স্থাপন করে বাণিজ্য করছিলেন। গত বছরের ৫ আগস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর আওয়ামী লীগের অনেক লোক আত্মগোপনে চলে গেলেও রশিদ মোল্লারা বিভিন্নভাবে এলাকায় থেকে তাঁর ছেলে কুয়াকাটা পৌর বিএনপির দপ্তর সম্পাদক (২) আবুবকর সিদ্দিক মোল্লাকে সঙ্গে নিয়ে ফের সাইনবোর্ড বাণিজ্য শুরু করেন। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এ কাজ করায় বিএনপির সুনাম নষ্ট হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল আজিজ বলেন, বাবা-ছেলে মিলে অন্যায়ভাবে দখলবাণিজ্য করায় সম্প্রতি মহিপুর থানা পুলিশের অনুরোধে পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পেট্রোল পাম্পের পেছনের এক টুকরো জমি নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তি করতে গিয়েছিলেন তিনি (আজিজ)। সেখানে পৌর বিএনপি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। সেই বৈঠকটি গোপনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভিডিও করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এতে তাঁর ও দলের সম্মানহানি ঘটছে।
গত সোমবার রাতে ওই বিরোধ নিষ্পত্তির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন বলে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সহসভাপতি হাবিবুর রহমান হাওলাদার, সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান, ওয়ার্ড বিএনপির নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আবুবকর সিদ্দিক মোল্লা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাঁর ও তাঁর বাবার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আওয়ামী লীগের কমিটিতে বাবার নাম আছে কিনা তাঁর জানা নেই। তবে তিনি কখনও আওয়ামী লীগের কোনো অনুষ্ঠানে যাননি। এছাড়া যে জমি নিয়ে তাঁর ভিডিও ভাইরাল হয়েছে ওই জমিতে তারা সাইনবোর্ড দেননি।
