রাজধানীর হাতিরঝিল থানাধীন মোড়লগলি এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত আরিফ সরদার (৩৫) মারা গেছেন।
সোমবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিত্সাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত গ্যাংয়ের সদস্যরা আরিফকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করেন। মূলত এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, মাদক ও চাঁদাবাজিতে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে তাকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে গ্যাংয়ের সদস্যরা গুলি করে।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, তিনজন ব্যক্তি আরিফকে মোড়লগলির ভেতরে নিয়ে যাচ্ছে। এরপর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তাকে গুলি করা হয়। সেখানে থেকে দৌড়ে পালিয়ে যায় তারা। মূলত হত্যা নিশ্চিত করতে তার মুখে গুলি করা হয়।
নিহত আরিফের বাবা গিয়াস উদ্দিন সিকদার বলেন, আমার ছেলেরে ডাইকা নিয়া গুলি করেছে। জানি না কেন আমার ছেলেরে তারা মারল। আমার একটাই ছেলে। আমার তো আর কেউ রইল না। আমি হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার চাই।
আরিফের দুলাভাই নুর ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, ঠিক কী কারণে আরিফকে গুলি করা হয়েছে; তার সঠিক তথ্য এখনো আমরা জানতে পারিনি। তবে ধারণা করছি তিনি বিএনপির স্থানীয় একটি গ্রুপের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ফলে অন্য গ্রুপের লোকেরা তাকে হত্যার জন্য গুলি করছে।
হাতিরঝিল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রাসেল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, আরিফ সরদারকে গুলির ঘটনায় রোববার রাতেই মামলা হয়েছে। মামলার আসামিদের ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে।
আরিফ সিকদারের গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায়। রাজধানীর ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় বসবাস করেন তিনি। ছিলেন ৩৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সক্রিয় সদস্য।
শনিবার রাতে রাজধানীর হাতিরঝিলের মোড়লগলির মুখে গুলিবদ্ধি হন আরিফ। তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে। সেখানে দুদিন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিত্সাধীন থাকা অবস্থায় সোমবার সকালে মৃত্যু হয় তার।
